তেহরানকে অন্তত ৯০টি অত্যাধুনিক হেলিকপ্টারভিত্তিক গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার সরবরাহে সম্মত হয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থা ‘দ্য ডাল্লাস অ্যানালিটিক্স’-এর সংগৃহীত রাশিয়ার প্রতিরক্ষা খাতের গোপন নথি ফাঁসের পর মস্কো-তেহরানের এই বিপজ্জনক সামরিক লেনদেনের তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।
ফাঁস হওয়া নথি অনুযায়ী, রাশিয়া ইরানকে তাদের শীর্ষ সামরিক সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘ভিম্পেল’-এর তৈরি ৯০টি ‘এলএমইউআর’ (LMUR) বা ‘খ-৩৯’ গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার সরবরাহ করবে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এই ঘাতক এলএমইউআর ক্ষেপণাস্ত্রগুলো অ্যাটাক হেলিকপ্টার থেকে ইউক্রেনীয় লক্ষ্যবস্তুর ওপর ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে আসছে রুশ বাহিনী।
গোপন চুক্তিতে ইরানকে গোপন কোড ‘কে-১০’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। চুক্তির আওতায় ২০২৪ সালের শেষভাগ থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এসব সরঞ্জাম সরবরাহের সময়সূচি নির্ধারিত রয়েছে। যদিও লঞ্চারগুলোর শতভাগ চালান ইতোমধ্যে তেহরানে পৌঁছেছে কি না সে বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে নথিতে থাকা ইয়াক-১৩০ যুদ্ধবিমান সরবরাহের সময়সূচির সাথে বাস্তবে হস্তান্তরের হুবহু মিল পাওয়া গেছে।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে সবচেয়ে বড় ভূরাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ফায়দা তুলছে ক্রেমলিন। মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনার ফলে হরমুজ প্রণালিতে তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়ে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ায় রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের ওপর থেকে ওয়াশিংটন বাধ্য হয়ে অবরোধের কড়াকড়ি শিথিল করেছে।
বিশ্ববাজারে তেলের চড়া দাম থেকে অর্জিত বাড়তি বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের রাজস্ব এখন ভ্লাদিমির পুতিনকে ইউক্রেন যুদ্ধের বিপুল ব্যয় মেটাতে এবং রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বাজেট সংকট সামলাতে বড় সমর্থন যোগাচ্ছে।
এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের মনোযোগ ও সামরিক সম্পদ পুনর্নিয়োগের কারণে ইউক্রেনের জন্য মার্কিন প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়ার সুযোগ মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে পড়েছে। তবে এত কিছুর পরও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মস্কো-তেহরান এই সামরিক অক্ষে রাশিয়ার ভূমিকা অতি সামান্য বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন—যাতে ইউক্রেন যুদ্ধ সমাপ্তির মূল আলোচনা থেকে রাশিয়াকে দূরে সরে যেতে না হয়।







