ছাত্রলীগের চিহ্নিত এক সন্ত্রাসীকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে এবং মুক্তিযোদ্ধা কোটার সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের (বিজেএস) মতো একটি পবিত্র ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে ‘সহকারী জজ’ বা সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অভিযুক্ত এই ব্যক্তির নাম মাসুম বিল্লাহ, যিনি জাবির আইন বিভাগের ৪৭ ব্যাচের (২০১৭-১৮ সেশন) শিক্ষার্থী।
গত স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের আমলে ক্যাম্পাসে ত্রাস সৃষ্টিকারী জাবি ছাত্রলীগের সোহেল-লিটন কমিটির সহ-সম্পাদক ছিলেন মাসুম বিল্লাহ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের আবাসিক এই শিক্ষার্থী ছিলেন তৎকালীন হল সেক্রেটারি হাবিবুর রহমান লিটনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ অনুসারী এবং জাবি ক্যাম্পাসে ত্রাস সৃষ্টিকারী ‘তাকিদ’ গ্রুপের অন্যতম শীর্ষ ক্যাডার।
ফ্যাসিবাদী শাসনামলে মাসুম বিল্লাহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়কের ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। হলের ত্রাস সৃষ্টিকারী গেস্টরুমে নির্যাতন, গণরুমে সাধারণ শিক্ষার্থী নিপীড়ন এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক পেটানোর মতো গুরুতর অপরাধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক তিনি একসময় আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কৃতও হয়েছিলেন।
বিজেএস পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর নিজের অতীত অপরাধ ও ছাত্রলীগী পরিচয় ঢাকতে তড়িঘড়ি করে নিজের মূল ফেসবুক আইডি ডিচিট বা deactivate করে দেন এই সন্ত্রাসী। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গেলে তাঁর আসল পরিচয় ও অপকর্মের বিষয়টি জানাজানি হয়ে পড়ে।
ইতোমধ্যে নিয়োগের চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে তাঁর সরকারি স্বাস্থ্য পরীক্ষাও (মেডিকেল চেকআপ) সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ফলে সব আইনি প্রক্রিয়া পেরিয়ে এখন কেবল চাকরিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের অপেক্ষা চলছে।
জুডিশিয়াল সার্ভিসের মতো একটি বিচার বিভাগীয় পদে ছাত্রলীগের এমন চিহ্নিত সন্ত্রাসীর প্রবেশ ঠেকাতে বর্তমান বিএনপি সরকার শেষ পর্যন্ত কী কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।







