কক্সবাজারের টেকনাফে দুর্গম পাহাড়ে সশস্ত্র মানবপাচারকারী চক্রের আস্তানায় অভিযান চালাতে গিয়ে এক সেনাসদস্য শহীদ হওয়ার পর এবার একই স্থানে তিনজনের লাশ পড়ে থাকার চাঞ্চল্যকর খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর ২০২৬) বিকেলে হ্নীলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া ও লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড়ি গহীন জঙ্গলে লাশগুলো পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা।
মরদেহ পড়ে থাকার তথ্য নিশ্চিত করে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান ও টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে পাহাড়ের জঙ্গলঘেরা আস্তানায় তিনটি লাশ পড়ে থাকার খবর তারা পেয়েছেন। তবে দুর্গম পাহাড়ি পথ এবং রাতের অন্ধকারের কারণে তৎক্ষণাৎ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। লাশগুলো উদ্ধার ও শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালীর ওই দুর্গম পাহাড়ে সশস্ত্র মানবপাচারকারী চক্রের আস্তানায় যৌথ বাহিনী এক ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান চালায়। অভিযানকালে যৌথ বাহিনীর ওপর নির্বিচারে গুলি বর্ষণ করে পাচারকারীরা। পাচারকারীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন সেনাবাহিনীতে কর্মরত সৈনিক মো. তিতাস শেখ (২৭); পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর বীরত্বপূর্ণ মৃত্যু ঘটে।
সেনাসদস্য শহীদ হওয়ার ওই একই অভিযানে পাহাড়ের টর্চার সেল ও গোপন আস্তানা থেকে বন্দি অবস্থায় থাকা ৫৬ জন ভুক্তভোগীকে জীবিত উদ্ধার করে যৌথ বাহিনী। একই সঙ্গে গোলাগুলির মধ্যে চক্রের ৬ জন সশস্ত্র পাচারকারীকে আটক করা হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের শুক্রবার সকালে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
পাহাড়ে সেনাসদস্য নিহতের ঘটনার পর থেকে যৌথ বাহিনীর ব্যাপক তল্লাশি ও সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে পাহাড়ে নতুন করে তিনটি লাশ পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়ায় পুরো টেকনাফজুড়ে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী সেনাসদস্য নিহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, পাহাড়ে অবস্থানরত সশস্ত্র পাচারকারীদের নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অপরাধীদের কোনো ছাড় না দিয়ে পুরো পাহাড়ি অঞ্চলে চিরুনি অভিযান চালানোর জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।







