কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি হয়েছেন ছাত্রলীগ ও বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত তাহমিদ আলম সফি। ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সম্প্রতি ছয় সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি অনুমোদন দিয়েছে।
২৪ সেপ্টেম্বর ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির স্বাক্ষরিত এ কমিটিতে সভাপতি হয়েছেন তাহমিদ আলম সফি। কমিটিতে আরও রয়েছেন—সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুল্লাহ আল নাঈম তোহা, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সাজিদুল হক, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল সাবিত তাবি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাবিলা ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক আলিফা ফারদিন।
তথ্য যাচাইয়ে জানা গেছে, ছয় সদস্যের মধ্যে পাঁচজনই ইন্টার্নশিপের শেষ পর্যায়ে। কেবল সাবিত তাবি তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তবে নতুন সভাপতি তাহমিদ আলম সফির অতীত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তিনি আগে বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদের কক্সবাজার জেলা শাখার সমাজসেবা সম্পাদক ছিলেন এবং ছাত্রলীগের কর্মসূচিতেও অংশ নিতেন। শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া থেকে শুরু করে ফেসবুকে ছাত্রলীগের প্রচারণাও করেছেন।
তবে সফির দাবি, পরিবারের রাজনৈতিক ঐতিহ্য বিএনপির সঙ্গে যুক্ত। তার বাবা সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। কলেজ জীবনে জোরপূর্বক নাম যুক্ত করে তাকে বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদে নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করে তিনি বলেন, “আমার মননে সবসময় ছাত্রদল ও জাতীয়তাবাদী আদর্শ কাজ করেছে।”
উল্লেখ্য, বর্তমানে কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের কোনো কমিটি নেই। এক বছর দুই মাস আগে জেলা কমিটি ভেঙে দেওয়ার পর থেকে শূন্যতা চলছে। অন্যদিকে গত ২৯ আগস্ট থেকে কলেজ একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তে ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। তবুও কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নতুন কমিটি অনুমোদন দিয়ে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার নির্দেশ দিয়েছে।
জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফাহিমুর রহমান জানান, মেডিকেল কলেজের কমিটিগুলো সরাসরি কেন্দ্রীয় ছাত্রদল দেখে। তবে তাহমিদ সফির বিতর্কিত অতীতের কারণে তাকে ফুল দেওয়ার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই এ কমিটি অনুমোদনকে ঘিরে কক্সবাজারে ব্যাপক আলোচনা চলছে।







