লাদাখে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ও সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিল অনুযায়ী সাংবিধানিক রক্ষাকবচের দাবিতে টালমাটাল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের ক্রমবর্ধমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে প্রশাসন কারফিউ জারি করেছে এবং ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।
আন্দোলনের পটভূমি
২০১৯ সালে জম্মু-কাশ্মীর পুনর্গঠন আইনের মাধ্যমে কাশ্মীর ও লাদাখকে আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করা হয়। কাশ্মীরকে আংশিক স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হলেও লাদাখকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে রাখা হয়, যেখানে কোনো নির্বাচিত আইনসভা নেই। এর ফলে লাদাখের জনগণ মনে করেন, তাদের রাজনৈতিক অধিকার, সাংবিধানিক সুরক্ষা এবং পরিবেশ-সংস্কৃতির সংরক্ষণ উপেক্ষিত হচ্ছে।
আন্দোলনের নেতৃত্বে সোনাম ওয়াংচুক
জনপ্রিয় পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনাম ওয়াংচুক, যিনি বলিউডের বিখ্যাত চলচ্চিত্র থ্রি ইডিয়েটস–এর আমির খানের চরিত্রের অনুপ্রেরণা ছিলেন, এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা হিসেবে উঠে আসেন। স্থানীয় জনগণের দাবি—লাদাখকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া হোক এবং ষষ্ঠ তফসিলের আওতায় এনে তাদের ভূমি, সংস্কৃতি, ও পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হোক।
গ্রেপ্তার ও দমন-পীড়ন
আন্দোলনের তীব্রতায় প্রশাসন সোনাম ওয়াংচুককে গ্রেপ্তার করেছে। তার গ্রেপ্তারকে ঘিরে আন্দোলন আরও বেগবান হচ্ছে। লাদাখের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বৌদ্ধ ও মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতারা এক কণ্ঠে বলছেন, “আমাদের পরিচয়, জমি ও ভবিষ্যৎ রক্ষায় আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।”
বর্তমান পরিস্থিতি
কারফিউ জারি: লেহ ও কারগিলের বিভিন্ন এলাকায় সেনা ও পুলিশ টহল বাড়ানো হয়েছে।
ইন্টারনেট বন্ধ: জনগণের সমাবেশ ও তথ্য আদানপ্রদান নিয়ন্ত্রণে ইন্টারনেট সেবা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
অস্থিরতা বৃদ্ধি: শিক্ষার্থী, সিভিল সোসাইটি ও ধর্মীয় নেতাদের অংশগ্রহণে আন্দোলন নতুন মাত্রা পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতামত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লাদাখের জনগণের দীর্ঘদিনের দমিত ক্ষোভ এখন বিস্ফোরিত হয়েছে। পূর্ণ রাজ্যের দাবি উপেক্ষা করলে এই আন্দোলন ভারতের ভেতরে নতুন এক রাজনৈতিক সঙ্কট সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ভারতের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রশ্নে নতুন বিতর্কের জন্ম দেবে।
একজন শিক্ষাবিদ থেকে আন্দোলনের আইকনে পরিণত হওয়া সোনাম ওয়াংচুকের গ্রেপ্তার লাদাখের আন্দোলনকে দমন নয়, বরং আরও তীব্র করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।







