গাজীপুরের মৌচাক এলাকার এক ১৩ বছরের মাদ্রাসা ছাত্রী অপহরণ করে ব্যাপক ধর্ষণের অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ; ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জনমনে তীব্র ক্ষোভ দেখা গেছে।
ভুক্তভোগীর বয়স ১৩ বছর। তার পরিবার কুড়িগ্রামের বাসিন্দা; মা-বাবা গার্মেন্টসে কাজের সুবাদে গাজীপুরের মৌচাকে ভাড়া বাসায় ছিলেন। একই ভবনে ভাড়া থাকত টাঙ্গাইলের সঞ্জিত বর্মনের পরিবার। পুলিশের ধার্য করা তথ্য অনুযায়ী লোকনাথ চন্দ্র দাস ও তার ভাগিনা জয় কুমার দাস মূল অভিযুক্ত হিসেবে ধরা হয়েছে এবং উদ্ধার-অনুসন্ধানে তাদের নামে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কালিয়াকৈর থানার ওসির বরাতে জানানো হয়েছে, মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে জয় কুমার দাস ও লোকনাথ চন্দ্র দাসকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদে তারা কিছুটা অভিযোগ স্বীকার করেছে; পরে বাদীপক্ষের জবানবন্দীসহ মামলাটি নথিভুক্ত করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে।
ভুক্তভোগীর একটি কান্নাজড়িত ভিডিও ক্লিপ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবাদ-প্রকাশ ও মানববন্ধনের আয়োজনের খবর আছে। বিষয়টি নিয়ে কিছু অনলাইন পোস্ট ও ফেসবুক প্রচারণাও দেখা গেছে।
পুলিশ ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে; ঐতিহ্যগতভাবে শিশুসংক্রান্ত যৌন অপরাধে দ্রুত, সংবেদনশীল এবং স্বচ্ছ তদন্ত ও ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা-ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা দেওয়ার পাশাপাশি সকল পলাতক আসামিকে দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া প্রয়োজন। (প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে আইনগত প্রক্রিয়া ও গ্রেপ্তার হওয়া/পলাতক আসামীদের ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়েছে)।
শিশু ও যৌন সহিংসতার ভুক্তভোগীদের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে সাধারণ সংবাদনীতিতে অনুকরণীয়ভাবে ক্ষুদ্রবয়সী ভুক্তভোগীর পরিচয় প্রকাশ না করাই অনুকূল। অনুরোধক্রমে এই প্রতিবেদনটিতে ভুক্তভোগীর নাম প্রকাশ করা হয়নি যাতে তার পুনরায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে এবং চিকিৎসা-সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করা যায়। (আপনি চাইলে এরপরকার প্রতিবেদনগুলোতে অভিযুক্তদের আদালত-রায়, পুলিশ বর্ণনা ও অপরাধ সংক্রান্ত কাগজপত্র অনুযায়ী নাম-নির্দিষ্ট তথ্য যোগ করা হবে)।
এই ধরনের ঘটনায় দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার, ক্ষতিগ্রস্ত শিশুর পূর্ণ-মর্যাদায় চিকিৎসা ও মানসিক সেবার ব্যবস্থা, এবং সমাজে নারীদের ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি সকল স্তরের দায়িত্বশীলতা জরুরি। পাশাপাশি গণমাধ্যম, নারী অধিকার সংগঠন ও সিভিল সোসাইটি যেন সংবেদনশীল ও আইনসম্মতভাবে কণ্ঠস্বর তোলেন—এটাই রাষ্ট্র ও সমাজের কর্তব্য।
