বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতাসহ তিন দফা দাবিতে টানা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে অবস্থান কর্মসূচি শেষে এখন তারা অনশন শুরু করেছেন। দীর্ঘ অনশন ও প্রচণ্ড গরমে শনিবার দুপুরের পর থেকে বেশ কয়েকজন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েন।
আন্দোলনরত শিক্ষকদের সংগঠন এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোট-এর সদস্যসচিব ও শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজীও অনশনের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে জানা গেছে।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১. মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া,
২. ১৫০০ টাকা মেডিকেল ভাতা,
৩. এবং কর্মচারীদের জন্য ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতা।
আন্দোলনরত শিক্ষকরা জানিয়েছেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর তারা আপস প্রস্তাবও দিয়েছিলেন— আপাতত ১০ শতাংশ বাড়িভাড়া ভাতা এবং আগামী বাজেটে বাকি ১০ শতাংশ বাস্তবায়নের শর্তে প্রজ্ঞাপন জারি করার অনুরোধ করেন। তবে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।
অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী বলেন,
“শিক্ষকরা রাস্তায় পড়ে অসুস্থ হচ্ছেন, তবুও প্রশাসনের মন গলছে না। আমরা কোনো অযৌক্তিক দাবি করছি না— মাত্র ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া ভাতা চেয়েছি। এমনকি ধাপে ধাপে দেওয়ার সুযোগও দিয়েছি। কিন্তু তারপরও কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। মনে হয়, আমলাতন্ত্রের ভেতরে কেউ যেন ইচ্ছাকৃতভাবে এই দাবি উপেক্ষা করছে।”
শিক্ষকদের দাবি, জীবনযাত্রার ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান ভাতায় তাদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন ও অনশন চালিয়ে যাবেন।
এদিকে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষকদের দাবি নিয়ে আলোচনার বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে বিবেচনাধীন রয়েছে।







