জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসাইন হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে পুলিশ। হত্যার দায় প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ছাত্রী ও তার প্রেমিক মাহির রহমান। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়েছিল এক মাস আগে।
পুলিশ জানায়, ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যার আগে টিউশনিতে যাওয়ার সময় পুরান ঢাকার আরমানিটোলার নুরবক্স রোডের রৌশান ভিলা নামের একটি বাসার নিচে জোবায়েদকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন মাহির। এ সময় মাহিরের সঙ্গে ছিলেন তার বন্ধু ফারদিন আহম্মেদ আয়লান। হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনাতেই সহায়তা করেন সেই ছাত্রী—যাকে পড়াতে যেতেন জোবায়েদ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে মাহির ও ছাত্রী দুজনই হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, জোবায়েদের সঙ্গে ওই ছাত্রীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মাহির তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরবর্তীতে তিনজন মিলে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন।
পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, “হত্যার পরিকল্পনা হয় প্রায় এক মাস আগে। মাহির, তার বন্ধু ফারদিন এবং মেয়েটি মিলে কৌশলে জোবায়েদকে ফাঁদে ফেলে। ঘটনার দিন মাহির ছুরি দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। মেয়েটি তখন নিচে এসে দেখে যায় জোবায়েদ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।”
প্রসঙ্গত, নিহত জোবায়েদ হোসাইন ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী, কুমিল্লা জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির সভাপতি ও জবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।
ঘটনার পর পুলিশ বর্ষা, মাহির ও ফারদিনসহ চারজনকে আটক করেছে। মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা।







