সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে উচ্চ ঝুঁকি নিয়েই এখনো ভারত থেকে আমদানি করা হচ্ছে বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ মিথানল। কিন্তু এই বন্দরে নেই অগ্নিনির্বাপণের কোনো ব্যবস্থা, নেই কেমিক্যাল পরীক্ষার ল্যাবরেটরি—যার ফলে প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে রয়েছেন শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
বন্দর কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে বন্দরে ল্যাব না থাকায় আমদানিকৃত মিথানলের নমুনা পরীক্ষার জন্য সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) পাঠানো হয়। পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরেই ভারতীয় ট্যাংক লরি থেকে রাসায়নিকটি খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়ায় সময় লাগে তিন দিন থেকে এক সপ্তাহ পর্যন্ত।
কিন্তু ফায়ার সার্ভিসের কোনো ইউনিট না থাকায় দুর্ঘটনা ঘটলে তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। গত বছর তামাবিল স্থলবন্দরে মিথানলবাহী এক ভারতীয় ট্যাংক লরিতে আগুন ধরলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। ঘটনাস্থলে তখন কোনো অগ্নিনির্বাপক ইউনিট না থাকায় ভারতের ডাউকি থেকে দমকল বাহিনী এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে জৈন্তাপুর ফায়ার সার্ভিস দলও তাদের সহায়তা করে।
ঘটনার পর স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে মিথানল আমদানি বন্ধ রাখার দাবি জানান। একই সঙ্গে স্থলবন্দরে একটি রাসায়নিক পরীক্ষাগার ও ফায়ার সার্ভিস ইউনিট স্থাপনের দাবি তোলেন তারা। তামাবিল পাথর ও চুনাপাথর আমদানিকারক গ্রুপও তখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে আবেদন করে। কিন্তু এতদিনেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
বাংলাদেশে পোশাক কারখানার কাঁচামাল ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন শিল্পে মিথানল ব্যবহৃত হয়। ভারতের আসাম রাজ্যের পার্বতপুর ডিব্রুগড় পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানি থেকে এই কেমিক্যাল আমদানি করা হয়। কিন্তু তামাবিল স্থলবন্দরে রাসায়নিক সংরক্ষণের নিরাপদ জোন না থাকায় ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে আগের মতোই।
সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ বলেন, “তামাবিল স্থলবন্দরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ও কেমিক্যাল ল্যাব স্থাপন এখন সময়ের দাবি। ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে এই দাবি জানিয়ে আসছেন, কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।”
তামাবিল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক রায়হান আহমদ জানান, “স্থলবন্দরকে কেন্দ্র করে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ফায়ার সার্ভিস ও ল্যাব স্থাপনের সমস্যার সমাধান হবে।”
কাস্টমস সুপারিনটেনডেন্ট আলমগীর হোসেন বলেন, “মিথানল পরীক্ষার রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত ট্যাংক লরিগুলো বন্দরে অপেক্ষা করে। এখন সতর্কতার সঙ্গে খালাস কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।”
তবে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া এভাবে বিপজ্জনক রাসায়নিক আমদানি অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে যেকোনো সময়।







