মৌলভীবাজারে হাওর রক্ষায় বিকল্প ভূমিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের দাবি নিয়ে একটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কাউয়াদীঘি ও হাইল হাওরে ফিজিবিলিটি স্টাডি ছাড়াই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের উদ্যোগের প্রতিবাদে ‘হাওর রক্ষা আন্দোলন, মৌলভীবাজার’ শনিবার জেলা প্রশাসকের কনফারেন্স হলে এই বৈঠকের আয়োজন করে।
বৈঠকে জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সিইজিআইএস, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞরা আলোচনায় অংশ নেন। কৃষক, মৎস্যজীবী, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও এতে বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, মৌলভীবাজারের পাহাড়-টিলা, চা-বাগান, নদী-ছড়া ও হাওর মিলিয়ে গঠিত ভূপ্রকৃতি জেলার পরিবেশগত ভারসাম্যের ভিত্তি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে হাওরের কৃষিজমি ক্রয়-বিক্রয় এবং সেখানেই সোলার প্রকল্প নেওয়ার প্রচেষ্টা জীববৈচিত্র্য, কৃষি ও মৎস্যসম্পদকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তাঁদের মতে, উন্নয়ন দরকার—কিন্তু তা অবশ্যই প্রকৃতি ও জীবিকার সুরক্ষা বজায় রেখে হতে হবে।
স্থানীয় কৃষক ও মৎস্যজীবীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, হাওরের ভিতরে প্রকল্প হলে পানি প্রবাহ ব্যাহত হবে, মাছের বংশবৃদ্ধি কমবে এবং কৃষিকাজও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাঁদের দাবি, বেরীবাঁধের খোলা জমি, ক্যানেলপাড়সহ সরকারি খাস জায়গায় ৫০০ থেকে ৭০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে, যা হাওরের ভেতর প্রকল্প স্থাপনের প্রয়োজনীয়তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ভূমি ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও আইনের দুর্বল প্রয়োগ ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছে। ভূমি সংস্কার আইনে ব্যক্তিমালিকানার সীমা ৬০ বিঘা হলেও কীভাবে শত শত একর হাওরের জমি হস্তান্তর হলো, সেই প্রশ্নও তাঁরা তুলে ধরেন।

এ ছাড়া হাওরাঞ্চলে বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়েও আলোচনায় আসে। বক্তাদের মতে, গবেষণা বাড়ালে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুতের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে, তবে পাখি ও পরিবেশ সুরক্ষা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।
বৈঠকের শেষে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ রেখে যেতে হাওর রক্ষা, সঠিক পরিকল্পনা, আইনের প্রয়োগ এবং রাষ্ট্রীয় ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।







