ঢাকা–১৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী এবং ‘মায়ের ডাক’ সংগঠনের সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলির বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে মামলা হয়েছে। বুধবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হোসাইন মোহাম্মদ আনোয়ার নামে এক ব্যক্তি মামলাটি করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযোগটি খতিয়ে দেখতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিয়ে সম্পর্কে সাম্প্রতিক এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যের মাধ্যমে তুলি ইসলাম ধর্মকে অপমান করেছেন এবং মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন—একজন পুরুষের চারটি বিয়ের অনুমতি কে দিয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তার বক্তব্য দণ্ডবিধির ২৯৫(ক) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের অন্তর্ভুক্ত।
১৫ নভেম্বরের ওই অনুষ্ঠানে তুলি চার বিয়ের বিষয়ে মন্তব্য করেন। পরবর্তীতে একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি ব্যাখ্যা দেন যে, ইসলামে পুরুষ সর্বোচ্চ চারটি বিয়ে করতে পারে, তবে সকল স্ত্রীর প্রতি সময়, অর্থ, অধিকার ও মর্যাদায় সমান ন্যায়বিচার করাই হলো কঠোর শর্ত। তিনি বলেন, তার বক্তব্য ছিল প্রতারণা, লুকিয়ে বিয়ে করা বা নারীর হক নষ্ট করাকে ইসলামের শিক্ষা হিসেবে দেখানো উচিত নয়। তিনি নিজের বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন না করার অনুরোধ জানান এবং কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে দুঃখ প্রকাশ করেন।
তুলি জানান, তিনি মুসলিম মূল্যবোধে বিশ্বাসী এবং ইসলামের নির্দেশনা ন্যায় ও স্বচ্ছতার ওপর প্রতিষ্ঠিত—এ কথাই স্মরণ করিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারকে ঐক্যবদ্ধ করে ‘মায়ের ডাক’ সংগঠন গড়ে তোলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তুলি আলোচনায় আসেন।
