আমেরিকার দখলদারী নীতি নিয়ে বিশ্লেষণমূলক মন্তব্য করেছেন সাংবাদিক সরোয়ার আলম। তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশে একই ধরনের রাজনৈতিক ও সামরিক কৌশল প্রয়োগ করে এসেছে। এ মডেলের মূল লক্ষ্য হলো একটি দেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা তৈরি করে সেখানে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো ও অর্থনৈতিক স্বার্থ অর্জন।
তার বিশ্লেষণে উঠে আসে—প্রথমে কোনো দেশে সরকারবিরোধী জনরোষ তৈরি করতে বিভিন্ন মাধ্যমে ইন্ধন দেওয়া হয়। এরপর সরকারকে রাজনৈতিক চাপে ফেলা এবং মার্কিন স্বার্থ নিশ্চিত করতে চাপ প্রয়োগ করা হয়। সরকার যদি সেই চাপ মানতে না চায়, তাহলে নির্বাচনের দাবি তোলা হয় এবং বিরোধী পক্ষকে বিভিন্নভাবে সহায়তা দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, বিরোধী দল নির্বাচন জিতলে তাকে সমর্থন জানানো হয়; আর না জিতলেও তাকে বিজয়ী দেখিয়ে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার চেষ্টাও দেখা যায়। একই সঙ্গে সরকারের বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ তুলে দেশব্যাপী অস্থিরতা তৈরি করা হয়। এমনকি পরিস্থিতি জটিল হলে রাষ্ট্রের ভেতর দুই ধরনের শাসনব্যবস্থার মতো অবস্থা তৈরি করে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়।
সরোয়ার আলমের মতে, সরকার যদি এতে নতি স্বীকার না করে, তখন সেনাবাহিনীকে দিয়ে অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টা করা হয়। সেনাবাহিনী যদি মার্কিন স্বার্থে সাড়া না দেয়, তখন তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় এবং সরকার ও সামরিক নেতৃত্বকে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। শেষ পর্যন্ত সামরিক হামলা চালিয়ে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার নজিরও রয়েছে।
তিনি বলেন, এসব ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত মানবাধিকার, গণতন্ত্র, নারী অধিকার, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান কিংবা মার্কিন নিরাপত্তা ঝুঁকির মতো বিভিন্ন অজুহাত সামনে আনে।
সরোয়ার আলম মনে করেন, পাগল, ঘুমন্ত, রঙিন বা রক্তপিপাসু—মার্কিন প্রেসিডেন্ট যেই হোন না কেন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতির মূল কাঠামো ও দখলদারী মডেল একই থাকে।







