উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) বদলি–পদায়নে প্রচলিত নিয়ম অমান্য করে সরাসরি ১৬৬ কর্মকর্তাকে পোস্টিং দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। পরিপত্র অনুযায়ী ইউএনও পদে পদায়ন ও বদলির ক্ষমতা বিভাগীয় কমিশনারদের হাতে থাকা সত্ত্বেও গত বুধবার মন্ত্রণালয় নিজ উদ্যোগে এসব পদায়ন সম্পন্ন করে।
২০১০ সালের ৩০ ডিসেম্বর জারি করা পরিপত্রে বলা হয়েছিল—সংস্থাপন (বর্তমান জনপ্রশাসন) মন্ত্রণালয় ইউএনও পদে ফিটলিস্ট তৈরি করবে এবং প্রশিক্ষণ শেষে কর্মকর্তাদের বিভাগীয় কমিশনারের নিকট ন্যস্ত করবে; এরপর বিভাগীয় কমিশনার শূন্য পদ অনুযায়ী উপজেলায় পোস্টিং দেবেন। পরিপত্র বাতিল না হওয়া সত্ত্বেও এবার সেই নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এপিডি উইংয়ের যুগ্মসচিব মিয়া আশরাফ রেজা ফরিদীর নেতৃত্বে বিতর্কিতভাবে এই ইউএনও পদায়ন সম্পন্ন হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রায় দেড়শোর বেশি কর্মকর্তার এ পদায়নে লটারির নামে পক্ষপাত ও সিন্ডিকেটের ভূমিকা ছিল বলে প্রশাসনের ভেতরে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
৩৭তম বিসিএসের আওতাভুক্ত একাধিক কর্মকর্তা—যাদের আওয়ামীমনা বা সুবিধাভোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়—তাদের ইউএনও হিসেবে বিভিন্ন উপজেলায় পদায়নের অভিযোগ উঠেছে। এসব কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছেন সালাউদ্দিন আইয়ুবী, আবদুল্লাহ আল রিফাত, জালালুদ্দিন, মাসুদুর রহমান, উম্মে কুলসুম রুবি, শাহাদাৎ হোসেন, মেসবাহ উদ্দিন, ফারজানা ববি মিতু, মাহমুদুল হাসান, কায়েসুর রহমানসহ আরও অনেকে।
প্রশাসনিক সূত্রগুলো বলছে, এপিডি উইংয়ের সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে পদায়ন–বদলি নিয়ন্ত্রণ করছে। ৫ আগস্টের পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে সিন্ডিকেটের প্রভাব বিস্তার আরও বেড়েছে এবং তা স্বরাষ্ট্র, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, অর্থসহ একাধিক মন্ত্রণালয় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রশাসন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটালাইজেশন, স্বচ্ছ নীতি, কঠোর জবাবদিহিতা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং জনচাপ—এই পাঁচটি পদক্ষেপ একসঙ্গে কার্যকর করতে পারলে সিন্ডিকেটের প্রভাব নিয়ন্ত্রণ ও ভাঙা সম্ভব।







