ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে টিএফআই সেলে সংঘটিত গুম-নির্যাতনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে সেনাবাহিনীর ১০ কর্মকর্তাকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টা ২৩ মিনিটে সেনানিবাসের বিশেষ কারাগার থেকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্রিজন ভ্যানে করে তাদের হাজির করা হয়।
হাজির হওয়া কর্মকর্তারা হলেন র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, র্যাবের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম।
মামলায় পলাতক আসামির মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, র্যাবের সাবেক ডিজি এম খুরশিদ হোসেন এবং র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক হারুন অর রশিদসহ আরও কয়েকজন।
আজ বেলা ১১টার পর ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের প্যানেল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন নিয়ে শুনানি শুরু করে। প্রসিকিউশনের পর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করবেন, আর পলাতকদের পক্ষে যুক্তি দেবেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা।
ট্রাইব্যুনাল এলাকায় আজ সকাল থেকেই অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। হাইকোর্টের ফটক থেকে ট্রাইব্যুনাল এলাকায় পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি, এপিবিএন এবং সাদা পোশাকের গোয়েন্দারা অবস্থান নেয়।
এর আগে গত ২২ অক্টোবর ১০ কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালে হাজির হলে আদালত তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং পলাতকদের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে হাজির না হওয়ায় তাদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ করা হয়।
মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গত ৮ অক্টোবর দাখিল করে প্রসিকিউশন, যা আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।







