চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে জুলাই যোদ্ধা, ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ)–এর সদস্য গাজী তাহমিদ খানের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাড়িয়ারহাট পৌরসভা এলাকায় সংঘর্ষের সময় তিনি মারাত্মকভাবে ছুরিকাহত হন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর রাত ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি বারৈয়ারহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব হিঙ্গুলী এলাকার মোহাম্মদ আলমগীরের ছেলে।

তাহমিদ আপ বাংলাদেশ চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার সদস্য ছিলেন। গত ১৯ নভেম্বর কেন্দ্রীয় সংগঠন অনুমোদিত ১১০ সদস্যের কমিটিতে তাঁর নাম ছিল ৩৬ নম্বরে। এছাড়া তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সাবেক সদস্য হিসেবেও কাজ করেছেন। আপ বাংলাদেশের প্রধান সংগঠক নাঈম আহমাদ তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যায় বারইয়ারহাট বাজারের একটি দোকানে হিঙ্গুলী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জুবায়ের পায়ের ওপর পা তুলে বসেছিলেন। এসময় বারইয়ারহাট পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম লিটন তাঁকে পা না নামিয়ে বসায় লাথি দেন। ঘটনাটি নিয়ে কথা-কাটাকাটি হলে উভয় পক্ষ চলে যায়। পরে লিটন ও জুবায়ের নিজ নিজ এলাকা জামালপুর ও হিঙ্গুলী থেকে লোকজন নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরাও এতে অংশ নেয় বলে জানা গেছে।
সংঘর্ষের সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন তাহমিদ। বারইয়ারহাট পৌরসভা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোহন দে জানান, লিটন ও জুবায়েরের মধ্যে বিরোধ মীমাংসায় তাঁরা ঘটনাস্থলে গেলে লিটনের লোকজন হামলা চালায়। তিনি বলেন, তাহমিদ কখন সেখানে গিয়েছিলেন জানা না গেলেও তাঁকে উপর্যুপরি কুপিয়ে আহত করা হয়।
জোরারগঞ্জ থানার ওসি কাজী নাজমুল হক জানান, দোকানে বসাকে কেন্দ্র করেই উত্তেজনার সূত্রপাত হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং এতে একজন নিহত হন। ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। দায়ীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।







