ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি ইশতেহারে বৈদেশিক নীতি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার দাবি জানিয়েছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি ও নয়া বন্দোবস্ত’ শীর্ষক আলোচনা ও প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান। সভাটির আয়োজন করে বাংলাদেশ আজাদি মুভমেন্ট।
অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, সব রাজনৈতিক দলকে তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে—তাদের বৈদেশিক নীতি কী হবে। একই সঙ্গে বহির্বিশ্বের সঙ্গে যেসব চুক্তি হয়েছে, সেগুলো পুনর্মূল্যায়ন ও নবায়নের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে এবং যেসব চুক্তি দেশবিরোধী, সেগুলো বাতিল করার অঙ্গীকার থাকতে হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওই অভ্যুত্থানের সময় তিনি একটি আত্মমর্যাদাশীল ও সার্বভৌমত্ব-সুরক্ষিত নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে জনগণের মধ্যে ঐক্যের ঘাটতি রয়েছে। সমাজে বিভাজন আবারও প্রকট হচ্ছে এবং রাজনীতিতে ‘রাজাকার’ ও ‘মৌলবাদ’সহ পুরোনো বিভাজনমূলক শব্দ ফিরে এসেছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কে ‘বন্ধু রাষ্ট্র’ বলে কিছু নেই, এখানে কেবল স্বার্থই মুখ্য। ভারতের কূটনৈতিক নীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, চাণক্য নীতিতে বহু আগেই লেখা হয়েছে—প্রতিবেশী সবসময় শত্রু হিসেবে বিবেচিত হয়।
আধিপত্যবাদ থেকে বেরিয়ে আসতে কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণের মধ্যে ইস্পাত-কঠিন ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। জ্ঞানচর্চা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা বাড়াতে হবে। ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন জরুরি। পাশাপাশি পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে জাতীয় সংহতি জোরদার করতে হবে।
ইসলামের প্রকৃত শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ইসলাম ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং শোষণ বন্ধের কথা বলে। সেই শিক্ষার আলোকে চরিত্র গঠনের প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ব্রিটিশ শাসনামল থেকে এ অঞ্চলের মানুষ নিপীড়িত হয়ে আসছে। ব্রিটিশরা সরাসরি শাসনের বদলে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে জমিদারদের হাতে ভূমির নিয়ন্ত্রণ দিয়েছিল। এখানকার মানুষ জোরপূর্বক মুসলমান হয়নি; বরং মুক্তির আকাঙ্ক্ষা ও সুফিদের দাওয়াতের মাধ্যমেই ইসলাম গ্রহণ করেছে।
ভারতীয় জাতীয়তাবাদকে হিন্দু জাতীয়তাবাদ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি মূলত ব্রাহ্মণ্যবাদী চিন্তার বহিঃপ্রকাশ। বাংলাদেশে এমন কোনো খাত নেই, যেখানে অনুপ্রবেশ ঘটেনি—এমনকি সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার ভেতরেও। তিনি অভিযোগ করেন, ৫৪ বছর পর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিজয় দিবসকেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেদের বিজয় হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান, খেলাফত আন্দোলনের নেতা মুফতি ফখরুল ইসলাম, ব্যারিস্টার এস এম শাহরিয়ারসহ অন্যান্য বক্তারা।
আপনি চাইলে আমি এটিকে আরও সংক্ষিপ্ত, আরও নিরপেক্ষ, অথবা শিরোনাম ও লিড পরিবর্তনসহ সম্পাদিত ভার্সনও করে দিতে







