নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে ধর্মান্তর ও বিয়ে সংক্রান্ত এক ঘটনায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী এক মুসলিম তরুণী তার সাবেক স্বামী অর্জুন ধর হীরা ওরফে মো. হীরা মিয়া (৩২)-এর বিরুদ্ধে নেত্রকোণা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে মামলাটি করেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, মোহনগঞ্জ পৌরশহরের দৌলতপুর এলাকায় বসবাসকালে একই এলাকার ওই মুসলিম তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন অর্জুন ধর হীরা। পরে ২০১৪ সালে আদালতে অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নাম পরিবর্তন করে মো. হীরা মিয়া রাখেন এবং ওই তরুণীকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে ২০১৭ সালে একটি কন্যা ও ২০২২ সালের শুরুতে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ২০২২ সালের ২৩ জানুয়ারি অভিযুক্ত পুনরায় ধর্ম পরিবর্তন করে আরেক হিন্দু তরুণীকে বিয়ে করেন। এরপর পারিবারিক বিরোধ চলতে থাকে। চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে তাকে তালাক দেওয়া হয় এবং সন্তানদের ভরণপোষণের আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে পরে ১৮ জুলাই রাতে অভিযুক্ত বাসায় এসে তাকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় থানায় গেলে পুলিশ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। পরে চলতি বছরের ৩১ জুলাই ভুক্তভোগী আদালতে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে গত ১৬ নভেম্বর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন। গত সপ্তাহে পিবিআই প্রতিবেদন দাখিল করলে ভুক্তভোগী পক্ষপাতমূলক তদন্তের অভিযোগ তুলে নারাজি দেন। এরপর আদালত মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য সিআইডিকে দায়িত্ব দেন।
আজ বুধবার নেত্রকোণা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক মো. চান মিয়া জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মামলাটির তদন্ত শুরু হয়েছে।
ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ, পিবিআই তদন্ত কর্মকর্তা সঠিকভাবে সব তথ্য যাচাই করেননি এবং অভিযুক্তের কাছ থেকে প্রভাবিত হয়ে মনগড়া প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। তার দাবি, আসামির একাধিক সিমকার্ড থাকলেও একটি সিমের তথ্যই যাচাই করা হয়েছে এবং মেডিকেল পরীক্ষাসহ সাক্ষ্যসংক্রান্ত বিষয়েও প্রতিবেদনে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে। এজন্য তিনি নারাজি দেন এবং সিআইডির মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্তের আশা প্রকাশ করেন।
অভিযুক্ত অর্জুন ধর হীরা ওরফে মো. হীরা মিয়া খালিয়াজুরী উপজেলার শালদীঘা এলাকার মৃত জয়কৃষ্ণ ধর ওরফে জয়দেন ধরের ছেলে। বর্তমানে মোহনগঞ্জ পৌরশহরের দৌলতপুর এলাকায় তার বসবাস। এ বিষয়ে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
মামলার অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী ও তার সন্তানদের পরিচয়সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে তিনি চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন।







