ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্র থাকাকালে ভর্তি সহায়িকা ‘চান্স প্লাস’ গ্রন্থটি লিখেছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদি। দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বহুল পরিচিত হলেও অনেকেই জানতেন না যে, জনপ্রিয় এই বইটির লেখক ছিলেন ওসমান হাদি।
সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও শহীদ মেজর মির্জা আব্দুল বাতেন দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক ইমরান আজিমের একটি ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। সেখানে তিনি ‘চান্স প্লাস’ বইটি নিয়ে নিজের স্মৃতিচারণ করেন। পোস্টে তিনি লেখেন, প্রায় ১০ বছর আগে এই বই পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিলেও এতদিন জানতেন না যে, বইটির লেখক ছিলেন ওসমান হাদি।
ইমরান আজিম তার লেখায় উল্লেখ করেন, তাদের সময়ে সাইফুর’স প্রকাশনীর ‘চান্স প্লাস’ বইয়ের নাম শোনেনি—এমন ভর্তি পরীক্ষার্থী খুঁজে পাওয়া কঠিন ছিল। তিনি জানান, ওসমান হাদি যখন বইটি লেখেন, তখন তিনি ঢাবির প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। বইটি থেকে পাওয়া রয়্যালটির অর্থ দিয়ে তার বোন মাছুমা হাদি ঢাকার কাছাকাছি এলাকায় জমি কিনে দেন। পাশাপাশি সাইফুর’সে তিনি ছিলেন অন্যতম জনপ্রিয় শিক্ষক।
গত বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিকেলে প্রকাশিত ওই ফেসবুক পোস্টটি অল্প সময়ের মধ্যেই দেড় হাজারের বেশি শেয়ার হয়। অনেকেই পোস্টটি কপি করে নিজের টাইমলাইনে শেয়ার করেছেন। প্রতিক্রিয়ায় হাসান মাহমুদ ইমন লিখেছেন, ওসমান হাদি কথা ও কাজে উভয় ক্ষেত্রেই বড় ছিলেন, কিন্তু তাকে বাঁচানো যায়নি। অন্যদিকে এইচএম বাকি বিল্লাহ রাতুল মন্তব্য করেন, বইটি বহু বছর ব্যবহার করলেও লেখকের পরিচয় সম্পর্কে তারা অবগত ছিলেন না।
এ ছাড়া ইরফাতুল আযমান নাহিয়ান লেখেন, ভর্তি পরীক্ষার্থী অথচ এই বইয়ের নাম শোনেনি—এমন কেউ নেই বললেই চলে, তবে আজই তিনি জানতে পেরেছেন যে বইটির লেখক ছিলেন ওসমান হাদি। ‘মুসাফির বাইতুল্লাহর’ নামের একটি আইডি থেকেও একই ধরনের মন্তব্য করা হয়েছে।
শহীদ শরিফ ওসমান হাদির লেখকসত্তা ও শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের এই স্মৃতিচারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।







