জকসু নির্বাচন ঘিরে আলোচনার আড়ালে নওগাঁ–রাজশাহী রুটে একটি যাত্রীবাহী বাসে সংঘটিত একটি গুরুতর সহিংসতার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মঙ্গলবার নওগাঁ থেকে রাজশাহীগামী একটি বাসে সহকারী পুলিশ সুপার শ্যামলী রানী বর্মণের স্বামী জয়ন্ত বর্মণের সঙ্গে বাসচালক বাদল ও সুপারভাইজারের তর্কাতর্কি হয়।
বাসচালক ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, জয়ন্ত বর্মণ সিটবিহীন টিকিট কেটে বাসে উঠে অন্য যাত্রীর নির্ধারিত আসনে বসেন। বিষয়টি নিয়ে সুপারভাইজার আপত্তি জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং স্ত্রী পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ার পরিচয় দিয়ে চালক ও সুপারভাইজারকে হুমকি দেন। পরে তিনি বাস থেকে নেমে যান।
অভিযোগে বলা হয়, ঘটনার পর ওই রাতেই সহকারী পুলিশ সুপার শ্যামলী রানী বর্মণ বাসচালক বাদলকে তার কার্যালয়ে ডেকে নেন। সেখানে তিনি নিজেই বাদলকে তলপেটে লাথি মারেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তার স্বামী ও সঙ্গে থাকা লোকজন মিলে বাসচালক বাদলকে বেধড়ক মারধর করেন। ভুক্তভোগী চালকের দাবি, মারধরের সময় শরীরের সংবেদনশীল ও গোপন অংশে আঘাত করা হয়।
এই ঘটনার পর বাসচালক বাদল শারীরিক ও মানসিকভাবে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। শ্রমজীবী মানুষের ওপর এমন অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠলেও ঘটনাটি এখনো মূলধারার গণমাধ্যমে তেমনভাবে উঠে আসেনি।
এদিকে শ্রমিক অধিকার নিয়ে রাজনীতি করা বিভিন্ন সংগঠন ও বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিবাদ বা কর্মসূচি দেখা যায়নি, যা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিভিন্ন মহল। ঘটনাটি নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।
