আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসীদের জন্য পাঠানো পোস্টাল ব্যালট পেপারে উদ্দেশ্যমূলকভাবে একটি রাজনৈতিক দলের নাম ও প্রতীক আগে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি দাবি করেন, বর্ণমালা অনুযায়ী ব্যালট সাজানো হয়নি এবং বিশেষ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নাম পরিকল্পিতভাবে শুরুতেই রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিএনপি প্রতিনিধি দলের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ অভিযোগ করেন। নজরুল ইসলাম খান বলেন, নির্বাচন কমিশন বিষয়টি হয়তো খেয়াল করেনি, অথবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইচ্ছাকৃতভাবেই এমনটি করেছেন। তিনি কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান, পোস্টাল ব্যালটের মতো করে যেন দেশের অভ্যন্তরের ব্যালট পেপারেও কোনোভাবেই প্রতীক ব্যবহারে পক্ষপাত তৈরি না হয়।
তিনি আরও বলেন, বাহরাইনে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল বিপুল সংখ্যক ব্যালট পেপার ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত রয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তারা বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে। ভোটে কারচুপির চেষ্টা হলে জাতীয় পরিচয়পত্র ব্লক করা হবে—এমন বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, শুধু এনআইডি ব্লক নয়, যারা এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তিনি অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ দল ভুয়া ভোটার তৈরির চেষ্টা করছে।
বৈঠকে কিছু প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি আলোচনায় আসে জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো প্রার্থী যদি বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করে থাকেন, তাহলে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্য। অথচ কিছু রিটার্নিং কর্মকর্তা এ ধরনের প্রার্থীদের প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করছেন, এমনকি মনোনয়নপত্র বাতিলও করা হচ্ছে। আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র একই কারণে বাতিল হয়েছে, বিএনপির মতে তাদেরও পুনর্বিবেচনার সুযোগ দেওয়া উচিত। এ বিষয়ে যেন আর জটিলতা সৃষ্টি না হয়—এমন অনুরোধ জানান তিনি।
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান বলেন, যথাসময়ে নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান উত্তরবঙ্গ সফর বাতিল করেছেন, যদিও সেটি রাজনৈতিক সফর ছিল না বলে স্পষ্ট করা হয়েছিল। বিএনপি নির্বাচনকালীন সমতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল অব্যাহতভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে, অথচ এ বিষয়ে কমিশনের কার্যকর ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না। গ্রামাঞ্চলে বিএনপি প্রার্থীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও, ঢাকাসহ বড় বড় এলাকায় অন্য দলের আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়গুলো কমিশন উপেক্ষা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এসপি নিয়োগ ও বদলি লটারির মাধ্যমে হয়েছে, সেখানে বিএনপির কোনো ভূমিকা নেই। এ বিষয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হলে তা রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে বিবেচিত হবে। জুলাই সনদে নোট অব ডিসেন্ট দেওয়ার বিষয়টি বহু দলই করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়াই বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্ত।
