লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার একটি ডাকাতির ঘটনায় র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে উপজেলা ছাত্রদল নেতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত মালামাল, নগদ টাকা ও একটি অবৈধ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চন্দ্রগঞ্জ থানার মামলা নম্বর-০৪ (তারিখ ০৯/০১/২০২৬) অনুযায়ী গত ৮ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিট থেকে ৩টা ১০ মিনিটের মধ্যে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ১২ নম্বর চরশাহী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ-পূর্ব তিতারকান্দি এলাকার আরব আলী মোল্লা বাড়িতে ১০ থেকে ১২ জনের একটি ডাকাত দল হানা দেয়। ডাকাতরা ওই বাড়ির দাউদ আলীর বসতঘর থেকে নগদ ৬৪ হাজার টাকা, ১১ আনা ওজনের স্বর্ণালংকার (আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৫২ হাজার টাকা) এবং ৬টি মোবাইল ফোনসহ মোট ৩ লাখ ৬ হাজার ৫০০ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী থানায় এজাহার দায়ের করলে চন্দ্রগঞ্জ থানায় মামলা রুজু করা হয়। লক্ষ্মীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. আবু তারেকের নির্দেশনায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল)-এর সহায়তায় এবং চন্দ্রগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মোরশেদ আলমের তত্ত্বাবধানে তদন্ত ও অভিযান শুরু করে পুলিশ।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ তিনজন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে। তারা হলেন—জায়েদ হোসেন (৩৬), বাদশা মিয়া (৩৫), আলা উদ্দিন (৩২) এবং আবুল বাশার (৫০)। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত জায়েদ হোসেন উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সাবেক ছয়ানী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। অন্য গ্রেপ্তারকৃতরা বিএনপির সক্রিয় সদস্য বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আবুল বাশারের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পলাতক আসামি রাসেলের বাড়ি থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা এবং জনৈক রনজিত কুরির কারখানা থেকে গলানো অবস্থায় ৬ আনা ৪ রতি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার ভবানী জীবনপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামি জায়েদ ওরফে জাহেদের ঘর থেকে একটি অবৈধ দেশীয় এলজি বন্দুক এবং নগদ ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বেগমগঞ্জ থানায় পৃথক একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা একটি পেশাদার ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং লুণ্ঠিত বাকি মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
থানার রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত আবুল বাশারের বিরুদ্ধে নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন থানায় অস্ত্র, ডাকাতি ও হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
চন্দ্রগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মোরশেদ আলম জানান, ডাকাতি প্রতিরোধ ও অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
