ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। নির্বাচন সামনে রেখে জেলার ছয়টি আসনেই শুরু হয়েছে জোর প্রচার-প্রচারণা। এসব আসনে মোট ৪৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে এনসিপির দুজন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের একজন মাঠে রয়েছেন। বিএনপি চারটি আসনে নিজস্ব প্রার্থী দিলেও দুটি আসন ছেড়ে দিয়েছে জোটসঙ্গীদের জন্য। ফলে এই সুযোগ কাজে লাগাতে তৎপর হয়ে উঠেছেন বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর)
হাওরবেষ্টিত এ আসনে রয়েছে ১৩টি ইউনিয়ন। মোট ভোটার ২ লাখ ৭৫ হাজার ৬২৯ জন। এখানে বিএনপির প্রার্থী এমএ হান্নান, জামায়াতের অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির শাহ আলম, ইসলামী আন্দোলনের হুসাইন আহম্মদ, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের শরীফ মৃধা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী একেএম কামরুজ্জামান ও ইকবাল চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনে মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াত জোট প্রার্থীর মধ্যে। তবে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী একেএম কামরুজ্জামান চমক দেখাতে পারেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ)
এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৯৯ হাজার ২৬৬ জন। এখানে বিএনপি নিজস্ব প্রার্থী দেয়নি; তারা সমর্থন দিয়েছে জোটসঙ্গী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহসভাপতি জুনায়েদ আল হাবিবকে, যিনি খেজুরগাছ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট থেকে প্রার্থী হয়েছেন এনসিপির আশরাফ উদ্দিন মাহ্দী। বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে দল থেকে বহিষ্কৃত ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। এছাড়া জাতীয় পার্টির জিয়াউল হক মৃধা, ইসলামী আন্দোলনের নেছার আহম্মেদ, জাসদের তৈমুর রেজা মো. শাহজাদ, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মাইন উদ্দিন, আমজনতার দলের শরিফা আক্তার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী এসএ তরুণ দে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। এখানে মূল লড়াই হবে রুমিন ফারহানা, বিএনপি জোটের প্রার্থী হাবিব এবং জামায়াত জোট প্রার্থীর মধ্যে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর)
এই আসনে মোট ভোটার ৬ লাখ ২৪ হাজার ৪৮০ জন। বিএনপির প্রার্থী প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল এবং জামায়াত জোটের প্রার্থী এনসিপির মো. আতাউল্লাহ। এছাড়া জাতীয় পার্টির রেজাউল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের নিয়াজুল করিম, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের আবু হানিফ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের আয়েশা আক্তার ও খেলাফত মজলিসের মো. এমদাদুল্লাহ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্য প্রার্থীরা তুলনামূলক দুর্বল হওয়ায় এখানে বিএনপির প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া)
এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৯০৯ জন। বিএনপি থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ড. মুশফিকুর রহমান। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আতাউর রহমান সরকার, জাতীয় পার্টির জহিরুল হক খান, গণঅধিকার পরিষদের জহিরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের মো. জসিম, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের রাফিউদ্দিন এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টির শাহিন খান। এখানে মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর)
এই আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৮২৬ জন। বিএনপির প্রার্থী আবদুল মান্নান এবং জামায়াত জোটের হয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমজাদ হোসাইন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের নজরুল ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের নাহিদা জাহান, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের আশরাফুল হক, জাতীয় পার্টির কামরুল ইসলাম, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির শাহিন খান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী নাজমুল হোসেন মাঠে রয়েছেন। এখানে বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে দলের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী নাজমুল হোসেনের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর)
এ আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৮৯ হাজার ৬৭৪ জন। এখানে বিএনপি নিজস্ব প্রার্থী দেয়নি; তারা সমর্থন দিয়েছে জোটসঙ্গী গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকিকে, যিনি ‘মাথাল’ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর মো. মহসিন, ইসলামী আন্দোলনের মাইন উদ্দিন খান, গণঅধিকার পরিষদের শফিকুল ইসলাম, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের আবু নাছের, জাসদের কেএম জাবির, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির শফিকুল ইসলাম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ড. সায়দুজ্জামান কামাল ও আবু কায়েস সিকদার। এখানে মূল লড়াই হবে বিএনপি জোটের প্রার্থী, বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘চারটি আসনে আমরা প্রার্থী দিয়েছি। বাকি দুটি আসন জোটসঙ্গীদের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের বিজয় নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি।’
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আমির মোবারক হোসেন জানান, ‘আমরা তিনটি আসন জোটপ্রার্থীদের জন্য ছেড়ে দিয়েছি। জোট থেকে মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছি।’







