সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের কার্ডের জন্য আবেদন গ্রহণের সময় নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওয়েবসাইটে স্বল্প সময়ের জন্য আবেদনকারীদের কিছু তথ্য দৃশ্যমান ছিল, তবে সেগুলো ডাউনলোডের কোনো সুযোগ ছিল না—এমন ব্যাখ্যা দিয়েছে কমিশন। গতকাল শনিবার ইসির ওয়েবসাইট থেকে প্রায় ১৪ হাজার সাংবাদিকের তথ্য ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর এ ব্যাখ্যা জানানো হয়।
ইসির জনসংযোগ পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক বলেন, সাংবাদিকদের আপত্তির মুখে গত বৃহস্পতিবার ওয়েবসাইটে তাদের আবেদনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে শনিবার পর্যবেক্ষকদের আবেদনের পথও বন্ধ করার প্রক্রিয়া চলছিল। এ সময় আগে নিবন্ধন করা যেসব আবেদনকারী নিজের ড্যাশবোর্ডে লগইন করেছিলেন, তারা অ্যাডমিন প্যানেল দেখতে পান। সে কারণে কিছু সময়ের জন্য এনআইডি নম্বর ও নামসহ কয়েকটি তথ্য দৃশ্যমান হয়েছিল। তবে এসব তথ্য ডাউনলোড করার কোনো অপশন ছিল না।
তিনি আরও বলেন, তথ্য কেউ ফাঁস করেনি। ওয়েবসাইটে কাজ চলাকালে কিছু তথ্য ওপেন অবস্থায় ছিল। সাইট হ্যাক করে বা অন্য কোনো উপায়ে তথ্য সংগ্রহ করে কোনো অপকর্মের অভিযোগও পাওয়া যায়নি।
ওয়েবসাইটটি পেশাদার কোনো ফার্ম নয়, বরং এআই দিয়ে তৈরি—এমন অভিযোগের জবাবে রুহুল আমিন মল্লিক বলেন, এটি ইসির নিজস্ব প্রোগ্রামাররাই তৈরি করেছেন। এআই দিয়ে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়েছে—এমন দাবি সঠিক নয়।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি pr.ecs.gov.bd ওয়েবসাইটটি ডেভেলপ করে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য প্রথমবারের মতো গণমাধ্যমকর্মী ও পর্যবেক্ষকদের অনলাইনে আবেদনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে তথ্য সরবরাহসংক্রান্ত নানা জটিলতায় সাংবাদিকদের তীব্র আপত্তির মুখে সেই উদ্যোগ থেকে সরে আসে কমিশন। ফলে আগের মতো এবারও ম্যানুয়ালি আবেদন গ্রহণ করে যাচাই-বাছাইয়ের পর সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইসির আগের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আবেদনকারীদের প্রথমে ওয়েবসাইটে এনআইডি ও ফোন নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করতে হতো। নিবন্ধন সম্পন্ন হলে ড্যাশবোর্ডে লগইন করে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র আপলোডের মাধ্যমে আবেদন শেষ করতে হতো। ইতোমধ্যে অনেকেই এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিলেন। এখন সেই আবেদনকারীদের তথ্য ফাঁস হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য চলতি সপ্তাহেই পাস ইস্যু করতে পারে ইসি। এবারে সাড়ে ৫৫ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।







