ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হয়ে কারাবন্দী থাকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. মো. সাফিকুর রহমান-এর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করেছে সরকার। একই সঙ্গে সংস্থাটির কার্যক্রম সচল রাখতে নতুন করে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ড. হুমায়রা সুলতানাকে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ৩ ফেব্রুয়ারি জারি করা এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।
মন্ত্রণালয়ের ‘বিমান-১ শাখা’ থেকে প্রকাশিত আদেশে বলা হয়, ফৌজদারি অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে কারাবন্দী থাকায় ড. সাফিকুর রহমানের সঙ্গে সরকারের করা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। ফলে তিনি আর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এমডি ও সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন না।
এদিকে সংস্থাটির দক্ষ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পরবর্তী পদায়ন না হওয়া পর্যন্ত এমডি ও সিইওর অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিমান ও সিভিল এভিয়েশন) ড. হুমায়রা সুলতানাকে।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ বিমান (Bangladesh Biman Order, 1972 রহিতকরণ ও পুনর্বহাল এবং সংশোধন) আইন, ২০২৩-এর ৩০(গ) ধারা অনুযায়ী তাঁকে নির্দেশক্রমে এই অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। নতুন এমডি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করবেন।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমেই এ আদেশ জারি করা হয়েছে। আদেশে স্বাক্ষর করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোছা. শাকিলা পারভীন।
নিয়োগসংক্রান্ত এই অফিস আদেশের অনুলিপি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, অর্থ মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রশাসনিক বিভাগকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
বিমানের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, এমডি ও সিইও পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্ত সংস্থাটির চলমান প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত সংকটের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিমানের পরিচালনা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সেবার মান নিয়ে চলমান আলোচনা ও সমালোচনার মধ্যেই এ পরিবর্তন এলো।







