তুরস্ক ও মিশরের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক শীতলতা কাটিয়ে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার এক নতুন অধ্যায় সূচিত হয়েছে। সম্প্রতি দেশ দুটির মধ্যে প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের একটি বিশাল প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তুরস্কের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘এমকেই’ (MKE) এবং মিশরের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এই চুক্তিটি সম্পন্ন হয়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের সাম্প্রতিক মিশর সফরের মধ্য দিয়েই এই গুরুত্বপূর্ণ সামরিক চুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে।
এই চুক্তির একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। প্রায় ১৩০ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে তুরস্ক মিশরকে তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘Tolga’ স্বল্প-পাল্লার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করবে। এই ব্যবস্থাটি মূলত বর্তমান সময়ের যুদ্ধক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ানো ড্রোন আক্রমণ এবং নিম্ন-উচ্চতার যেকোনো আকাশীয় হুমকি অত্যন্ত কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম। এর মাধ্যমে মিশরের সীমান্ত ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা চুক্তির বাকি ২২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করা হবে মিশরের অভ্যন্তরীণ সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে। এই অর্থের বিনিময়ে মিশরে আধুনিক গোলাবারুদ উৎপাদন লাইন এবং কারখানা স্থাপন করবে তুরস্ক। এই কারখানায় বিভিন্ন ক্যালিবারের গোলাবারুদ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা মিশরের সামরিক বাহিনীর গোলাবারুদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেশটিকে এই খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে সাহায্য করবে। দুই দেশের এই সহযোগিতা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এক সময়কার প্রতিদ্বন্দ্বী এই দুই দেশের মধ্যে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের এই সমঝোতাকে ঐতিহাসিক হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। এরদোয়ানের কায়রো সফরের পর এই ধরনের বড় অংকের প্রতিরক্ষা চুক্তি প্রমাণ করে যে, আঙ্কারা ও কায়রো এখন একে অপরের ওপর আস্থা রাখতে শুরু করেছে। এই চুক্তির ফলে কেবল সামরিক শক্তিই বৃদ্ধি পাবে না, বরং লোহিত সাগর ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে দেশ দুটির কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।







