এই জাতির ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য পাঁচ বছরই যথেষ্ট বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বাস্তবতার বাইরে কোনো প্রতিশ্রুতি আমরা দেব না। যা বলব, ইনশাআল্লাহ জান-প্রাণ দিয়ে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করব। যেভাবে সহযোদ্ধারা জান-প্রাণ দিয়ে জুলাই এনে দিয়েছে, ঠিক সেভাবেই আগামীর দায়িত্বও আমরা পালন করব।
রোববার সকালে রাজধানীর মেরুল বাড্ডার ডিআইটি মাঠে ঢাকা-১১ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সারা বাংলাদেশ আজ জেগে উঠেছে। তরুণ সমাজ তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে—তারা পুরোনো বন্দোবস্তের রাজনীতির সঙ্গে নেই। বস্তাপচা রাজনীতি তারা আর ফিরিয়ে আনতে চায় না। তারা দেখতে চায় একটি নতুন বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন ধারার উত্থান এখন সময়ের দাবি। আগামী ১২ তারিখ জনগণ তাদের রায় দেবে। জনগণ দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, দখলদার ও আধিপত্যবাদের দালালদের লাল কার্ড দেখাবে।
জামায়াত আমির বলেন, নাহিদ ইসলাম আপনাদের এলাকার সন্তান। ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশের পক্ষে জনগণের রায় যদি আল্লাহর মেহেরবানিতে আসে, তবে আপনারা নাহিদ ইসলামকে একজন মন্ত্রী হিসেবেই দেখতে পাবেন। আমরা সবাই হাতে হাত রেখে একসঙ্গে কাজ করব।
তিনি আরও বলেন, আসুন—বেইনসাফমুক্ত, জুলুমবাজমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, দখলবাজমুক্ত, মামলাবাজমুক্ত ও আধিপত্যবাদমুক্ত একটি মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সামনে এগিয়ে যাই।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদ ও হাদি—তোমাদের কাছে আমরা ঋণী। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, তোমাদের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ পেলে একটি যোগ্য, দীপ্ত ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র উপহার দেবো ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, এই দেশ আমরা যুবকদের হাতে তুলে দিতে চাই। আমরা ভুয়া প্রতিশ্রুতি কিংবা বেকার ভাতার নামে লোক দেখানো কার্ডে বিশ্বাসী নই। যেমন দশ টাকা কেজি চাউলের কথা ভুয়া ছিল, তেমনি এসব কার্ডও ভুয়া। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ এসব ভুয়া ব্যবস্থাকে লাল কার্ড দেখাবে।
আক্ষেপ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, সাড়ে ১৫ বছর যারা জুলুমের শিকার ছিল, তাদেরই একটি অংশ আজ জুলুমের পথে হাঁটছে। যারা একসময় মজলুম ছিল, তারা এখন জালেমের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। আমরা বিনয়ের সঙ্গে বলছি—মজলুম ছিলেন, জালেম হবেন না।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানে বেপরোয়া চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মামলাবাজি শুরু হয়েছে। বড় বড় ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা কোথায় যাবেন? মিথ্যা মামলায় জিম্মি করে তাদের কাছ থেকে শত শত কোটি টাকা দাবি করা হচ্ছে। আশ্চর্যের বিষয়, যারা দীর্ঘদিন বিদেশে পালিয়ে ছিল, তারাই ফিরে এসে এই মামলাবাণিজ্যে জড়াচ্ছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগস্টের ৬ তারিখ থেকে আজ পর্যন্ত সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার। ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ফুটপাতে বসা ভিক্ষুক পর্যন্ত চাঁদাবাজির হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না।
তিনি বলেন, আমাদের সন্তানরা দাবি করেছিল—‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। তারা ন্যায়বিচার ও শান্তি চায়। যারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে, তাদের উচিত আগে নিজেদের ঘর পরিষ্কার করা। ঋণখেলাপি ও ব্যাংক লুটেরাদের আশ্রয় দিয়ে দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়া সম্ভব নয়—জনগণ তা ভালোভাবেই বুঝে।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। এছাড়া এনসিপিসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা বক্তব্য রাখেন।
