আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত পূরণ করতেই সরকার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলবে বলে দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এই কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী আইএমএফের সঙ্গে বৈঠকের পর বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা আন্তর্জাতিক সংস্থার চাপেরই ফল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের দাস বা গোলাম নই যে তাদের কথা আমাদের মানতে হবে।
সমাবেশে তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি চার্জ, সিস্টেম লস, রেন্টাল ও কুইক রেন্টালের নামে দীর্ঘদিন ধরে বিপুল অর্থ অপচয় ও লুটপাট চলছে। এসব অনিয়ম বন্ধ না করে উল্টো বিদ্যুতের দাম বাড়ানোকে তিনি জনগণের অর্থ ‘আবারও হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা’ বলে মন্তব্য করেন। জ্বালানি ও বিদ্যুৎমন্ত্রী কিছুদিন আগে আগামী দুই বছর বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও তা ভঙ্গ করে অল্প সময়ের মধ্যেই গ্রাহক পর্যায়ে দাম বাড়ানো হয়েছে, যা জনগণের জন্য বিস্ময়কর ও হতাশাজনক বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সমাবেশে জামায়াত নেতারা অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় গ্যাস ও তেলের দামও একাধিকবার বাড়ানো হয়েছে, যার প্রভাব সরাসরি নিত্যপণ্যের বাজারে পড়ছে। এতে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গিয়ে জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়ছে এবং সরকার এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করলে জনগণের ক্ষোভ আরও বেড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে দলের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং গ্যাসের দাম বাড়ানোর ফলে দ্রব্যমূল্য বেড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এর পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনায় জনআকাঙ্ক্ষা উপেক্ষিত হচ্ছে বলে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন।
সমাবেশের সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে চাপ আরও বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাবে। দেশের সাধারণ মানুষের এই দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে তিনি অবিলম্বে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির এই গণবিরোধী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান।
