ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে আয়োজিত গণভোট শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায় দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোটগ্রহণ শেষে এক বিবৃতিতে তিনি এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতিফলন প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ প্রমাণ করেছে যে বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের প্রতি কতটা শ্রদ্ধাশীল। তিনি বলেন, “জনগণ তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। এটি আমাদের নতুন বাংলাদেশের যাত্রায় এক অভূতপূর্ব মাইলফলক।”
সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি ধন্যবাদ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করায় নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন এবং গণমাধ্যমকর্মীদের বিশেষ ধন্যবাদ জানান ড. ইউনূস। দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক দল ও ভোটগ্রহণে যুক্ত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই এই বিশাল আয়োজন সফল হয়েছে।
সহনশীলতার আহ্বান নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পরও যেন গণতান্ত্রিক শালীনতা, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ অটুট থাকে। জাতীয় স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
নতুন বাংলাদেশের যাত্রা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আরও বলেন, এই নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি আদর্শ মানদণ্ড তৈরি করেছে। জনগণই যে সব ক্ষমতার উৎস, তা আজ আবারও প্রমাণিত। তিনি একটি জবাবদিহিমূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই ধারাই আমাদের গণতন্ত্রকে উৎকর্ষের শিখরে নিয়ে যাবে।
বিবৃতিটি প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন।
