২০১৬ সালে রাজধানীর কল্যাণপুরের ‘জাহাজবাড়িতে’ কথিত জঙ্গি নাটক সাজিয়ে ৯ তরুণকে হত্যার অভিযোগে দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নতুন আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মামলার প্রধান আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক ছয় আসামিকে আদালতে হাজির হতে দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ প্রদান করে। শেখ হাসিনা ছাড়াও এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন— সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক, ডিএমপির সাবেক কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া, এসবির সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম এবং ডিএমপির মিরপুর বিভাগের সাবেক ডিসি মো. জসীম উদ্দীন মোল্লা।
ঘটনার প্রেক্ষাপটে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৬ জুলাই কল্যাণপুরের ৫ নম্বর সড়কের ‘তাজ মঞ্জিল’ (যা জাহাজবাড়ি নামে পরিচিত) ভবনে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযান শেষে জানানো হয়, পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নব্য জেএমবির ৯ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। ওই সময় হাসান নামে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয় এবং মিরপুর মডেল থানায় একটি সন্ত্রাসবিরোধী মামলা দায়ের করা হয়।
দীর্ঘদিন এই ঘটনাটি ‘জঙ্গি আস্তানা’ হিসেবে পরিচিত থাকলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভিন্ন ভাষ্য সামনে আসতে থাকে। নিহতদের পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এটি ছিল একটি সাজানো নাটক এবং এর মাধ্যমে ঠান্ডা মাথায় ৯ তরুণকে হত্যা করা হয়েছে।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে গত বছরের ৬ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনাসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা দায়ের করা হয়। পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর এবার তাদের আদালতে হাজিরের প্রক্রিয়া হিসেবে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলো।
