বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যের ওপর পূর্ণ আস্থা পুনর্ব্যক্ত করেছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে নিহতের সংখ্যা ও প্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগের উত্থাপিত সব প্রশ্ন ও আপত্তি নাকচ করেছে সংস্থাটি।
সোমবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক স্পষ্টভাবে জানান, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর থেকে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনের তথ্য নিয়ে সন্দেহ করার কোনো কারণ নেই।
ব্রিফিংয়ের প্রশ্নোত্তর পর্বে উল্লেখ করা হয়, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে জাতিসংঘের তথ্য-অনুসন্ধান প্রতিবেদনে দেওয়া কিছু তথ্য সঠিক নয়। বিশেষ করে আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা নিয়ে দলটির পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়া জুলাই অভ্যুত্থানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন মানুষ নিহত হয়েছিলেন।
প্রশ্নকারী আরও উল্লেখ করেন, ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, দণ্ডপ্রাপ্ত ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। সেই চিঠিতে তিনি প্রতিবেদনে থাকা তথাকথিত ভুল তথ্যের বিষয়ে কড়া আপত্তি জানিয়েছেন বলে খবর এসেছে। এর জবাবে দুজারিক সাফ জানিয়ে দেন, প্রতিবেদনটি আমাদের মানবাধিকার দপ্তরের সহকর্মীরা তৈরি ও প্রকাশ করেছেন এবং এটি নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো অবকাশ তাঁরা দেখছেন না।
এদিকে বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘের মুখপাত্র বলেন, বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্র থেকে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বিদেশে পাচার হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অর্থ পাচার যেকোনো দেশের উন্নয়নের পথে একটি বড় বাধা সৃষ্টি করে। এ ধরনের পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে তারা আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে সর্বদা উৎসাহিত করেন, যাতে জনগণের কষ্টের অর্থ আবার সেই দেশগুলোর জনগণের কল্যাণেই ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়।
