রাজধানী ঢাকা ও নরসিংদীতে সাম্প্রতিক সময়ে শিশু ও কিশোরী হত্যার নৃশংস ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘এসব ঘটনা গোটা জাতিকে স্তম্ভিত করেছে।’
বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান তিনটি সুনির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ করেন—ঢাকায় ৬ বছর বয়সী শিশু তাহিয়াকে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা, নরসিংদীতে ১৫ বছর বয়সী কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর খুন এবং হাজারীবাগে এক স্কুলছাত্রী হত্যা। তিনি অভিযোগ করেন, এই ঘটনাগুলোর পেছনে নগ্ন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং প্রশাসনের চরম শৈথিল্য পরিলক্ষিত হচ্ছে।
বিরোধীদলীয় নেতা প্রশ্ন তোলেন, অপরাধীর বিচার নিশ্চিত করার বদলে ধর্ষকের রক্ষক হয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে এলাকা ছাড়া করার দুঃসাহস ক্ষমতায় মত্ত রাজনৈতিক নেতারা কীভাবে দেখান? তিনি শিশু তাহিয়া হত্যাকে ‘দুর্ঘটনা’ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টার তীব্র সমালোচনা করেন এবং বর্তমানে মামলা তুলে নিতে পরিবারকে যারা হুমকি দিচ্ছে, তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দলীয় পদবি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্যাতিতদের দমিয়ে রাখা এবং নিপীড়কদের রক্ষা করা কোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক দেশের সংস্কৃতি হতে পারে না। ইনসাফ বা ন্যাবিচারের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস সহ্য করা হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
বিবৃতিতে তিনি অবিলম্বে দোষীদের আইনের আওতায় এনে স্বচ্ছ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা, চিকিৎসা, আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান।
বিবৃতির শেষাংশে তিনি নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি অঙ্গীকার করেন যে, দেশের সকল মজলুমের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে তিনি ও তাঁর দল সব সময় সোচ্চার থাকবে।
