ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক আল মামুন ইলিয়াস দীর্ঘ ১০ বছর পর ছাত্রলীগ নেতাদের হাতে তাঁর ওপর চালানো ‘বর্বর’ নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানান এবং এই ঘটনার বিচার চেয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে ঘোষণা করেন।
আল মামুন ইলিয়াস জানান, ২০১৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে তিনি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের অতিথি কক্ষে বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখন সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হল ছাত্রলীগের প্রায় ৭০-৮০ জন নেতাকর্মী তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর রড, ক্রিকেট স্ট্যাম্প ও হকিস্টিক দিয়ে তাঁর ওপর দফায় দফায় অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ছাত্রলীগ তাঁকে প্রক্টর টিমের হাতে তুলে দেয়। প্রক্টর টিম তাঁকে উদ্ধার করে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায়। ইলিয়াস অভিযোগ করেন, সে সময়কার প্রক্টর তাঁকে মুক্তি দেওয়ার পরিবর্তে পুলিশের ওসিকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এমনকি পুলিশ তাঁকে একজন ব্লগার হত্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়েছিল।
পরিবারের ত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছোট ভাইকে বাঁচাতে তাঁর মেজো ভাই তড়িঘড়ি করে ১০-১২ লাখ টাকা মূল্যের জমি অর্ধেক দামে বিক্রি করে পুলিশের দাবি মেটান। ইলিয়াসের দাবি, ছাত্রলীগকে সে সময় পুলিশ ‘গ্রেপ্তার বাণিজ্য’-এর কমিশন দিত এবং সেই টাকা দিয়ে তারা উৎসবে মেতে উঠত।
বিপদে পাশে দাঁড়ানো বন্ধুদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁর বন্ধু খোকন নিজের গায়ের জামা খুলে তাঁকে পরিয়ে দিয়েছিলেন। এ ছাড়া তাঁর শিক্ষক শাহ শামীম আহমদ থানায় গিয়ে ছাত্রের হয়ে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কথা বলেছিলেন, যা তাঁকে মানসিকভাবে সাহস জুগিয়েছিল।
নিজের শরীরে এখনো নির্যাতনের চিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছেন জানিয়ে আল মামুন ইলিয়াস বলেন, “নয়তো আবরারের জায়গা আমার হতে পারত।” তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে আর কোনো শিক্ষার্থীর ওপর যেন এমন নিষ্ঠুরতা না হয়, সেই লক্ষ্যে তিনি আইনি ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছেন।
