সাহরি—রাতের শেষভাগে খাওয়া হয় এমন খাবার। মহান আল্লাহ রোজার উদ্দেশ্যে ভোরে সাহরি খাওয়ার বিধান দিয়েছেন। মুহাম্মদ (সা.) সাহরি খাওয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন এবং এটিকে বরকতময় বলে আখ্যায়িত করেছেন। এটি মুসলমানদের বৈশিষ্ট্যও বটে।
সাহরির সময়
সাহরি হলো ভোরের একটু আগের খাবার। আল্লামা যামাখশারী (রহ.) বলেন, রাতের ছয় ভাগের শেষ ভাগ সাহরির সময়। মোল্লা আলি কারি (রাহ.) বলেন, রাতের অর্ধাংশের পর থেকেই সাহরির সময় শুরু হয় এবং ফজরের পূর্ব পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকে (মিরকাতুল মাফাতিহ)।
সাহরির সময় শুরু হওয়ার ব্যাপারে মতপার্থক্য থাকলেও এর সমাপ্তির ব্যাপারে সবাই একমত। তা হলো সুবহে সাদিক তথা ফজরের সময় শুরু হওয়া মাত্রই সাহরির সময় শেষ হয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা খাও ও পান করো যতক্ষণ রাতের কালো রেখা হতে উষার সাদা রেখা স্পষ্টরূপে প্রতিভাত না হয়। অতঃপর রাত আগমন পর্যন্ত রোজা পূর্ণ করো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৭)
সাহরির ফজিলত
আনাস ইবন মালিক (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা সাহরি খাও, কারণ সাহরিতে বরকত রয়েছে।’ (সহিহ বুখারি; সহিহ মুসলিম)।
আমর ইবন আস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আমাদের ও কিতাবধারীদের রোজার মধ্যে পার্থক্য হলো, সাহরি খাওয়া।’ (সহিহ মুসলিম)।
ইবন উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ ও তার ফেরেশতারা সাহরি গ্রহণকারীদের জন্য রহমতের দোয়া করেন।’ (ইবন হিব্বান)।
সাহরিতে যা খাওয়া যায়
সাহরি বরকতময় খাবার। বরকতময় হওয়ার অর্থ এই নয় যে, খুব বেশি করে খেতে হবে। এক ঢোক পানি পান করলেও সাহরির সুন্নত আদায় হয়। খেজুর দিয়েও সাহরি খাওয়া যায়। নবী (সা.) এটিকে মুমিনের উত্তম সাহরি বলে আখ্যায়িত করেছেন।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মুমিনের উত্তম সাহরি হলো খেজুর।’ (সুনান আবু দাউদ)।
শেষ সময়ে সাহরি খাওয়া
সুন্নত হলো, সাহরির শেষ সময়ের কাছাকাছি খাওয়া। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাহরি ও ফজর নামাজের মধ্যে ৫০ আয়াত তেলাওয়াতের সমপরিমাণ সময়ের ব্যবধান থাকত। যায়দ ইবন সাবেত (রা.) থেকে বর্ণিত, আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে সাহরি খেয়েছি। অতঃপর ফজরের নামাজ আদায় করেছি। সাহরি ও নামাজের মধ্যে প্রায় ৫০ আয়াত তেলাওয়াত পরিমাণ সময় ছিল (সহিহ বুখারি; সহিহ মুসলিম)।
সাহাবায়ে কেরাম সময় হলে দ্রুত ইফতার করতেন এবং দেরিতে সাহরি খেতেন (আল-মুসান্নাফ)।
সাহরি ও ফজরের আজান
সাহরির সময় শেষ হওয়া মাত্রই পানাহার বন্ধ করতে হবে। আজান দেওয়া-না দেওয়া এখানে মূল বিষয় নয়; বরং ফজরের সময় শুরু হওয়াই বিবেচ্য।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সময়ে হজরত বিলাল (রা.) তাহাজ্জুদ ও সাহরির সময় আজান দিতেন এবং হজরত আবদুল্লাহ ইবন উম্মে মাকতুম (রা.) ফজরের আজান দিতেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বিলাল রাতে আজান দেয়। তোমরা খাও ও পান করো যতক্ষণ না ইবন উম্মে মাকতুমের আজান শুনতে পাও।’ (সহিহ বুখারি; সহিহ মুসলিম)।
সাহরি ও ফজর নামাজ
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাহরি ও ফজর নামাজের মধ্যে ৫০ আয়াত তেলাওয়াতের সমপরিমাণ সময় থাকত, যা আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ মিনিট। কাজেই শেষ সময়ে সাহরি শেষ করে ফজরের সময় হলে নামাজ আদায় করলে সুন্নত অনুসরণ করা হয়।
লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, আরবি বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
:
