সেবাগ্রহণকারী নাগরিকদের সুবিধা বৃদ্ধি, প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনা এবং দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের লক্ষ্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত বাধ্যতামূলকভাবে নিজ অফিসকক্ষে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে গত ২ মার্চ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি পরিপত্র জারি করা হয়। এর আগে ২০১৯ ও ২০২১ সালেও একই ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, অনেক ক্ষেত্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে আসার পথে দাপ্তরিক বা ব্যক্তিগত বিভিন্ন কর্মসূচিতে—যেমন সেমিনার, ওয়ার্কশপ, সিম্পোজিয়াম, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে অতিথি বক্তা হিসেবে অংশগ্রহণ, ব্যাংক, হাসপাতাল বা বিদ্যালয়ে গমন—যুক্ত থাকার কারণে নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত থাকতে পারেন না। এতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাধারণ মানুষ ও অন্যান্য দপ্তরের প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ব্যাহত হয়, যা নাগরিকসেবা, প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতি এবং সরকারের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এই প্রেক্ষাপটে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নিজ নিজ অফিসকক্ষে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দাপ্তরিক কর্মসূচি নির্ধারণের সময়ও যাতে এই সময়সীমা বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিপত্রে আরও বলা হয়, ‘সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯’ এবং ‘সচিবালয় নির্দেশমালা, ২০২৪’ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিতি ও প্রস্থান নিশ্চিত করা সব সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বাধ্যতামূলক।
তবে কিছু ক্ষেত্রে এ নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে না। যেমন—
-
শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এবং প্রশাসনিক দায়িত্বে নিয়োজিত নন এমন শিক্ষক বা অনুষদ সদস্যরা;
-
হাসপাতাল, জেলখানা, সংবাদ বা নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে রোস্টার ডিউটিতে নিয়োজিতরা;
-
জরুরি গ্রাহকসেবায় সরাসরি সম্পৃক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা;
-
মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অনুরূপ সংস্থার সদস্যরা;
-
ভিভিআইপি/ডিআইপি প্রটোকল, আকস্মিক বড় দুর্ঘটনা মোকাবিলা, উন্নয়ন সহযোগী বা কূটনৈতিক মিশনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সভা এবং অনুমোদিত সরকারি সফরের ক্ষেত্রে।
এছাড়া কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না এবং অফিস সময়ের মধ্যে দাপ্তরিক কাজ ছাড়া দপ্তর ছেড়ে যাওয়াও নিষিদ্ধ থাকবে।
