ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে বাড়িতে ঢুকে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ঠাকুরগাঁওয়ের এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ঠাকুরগাঁও সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মো. আলাউদ্দীন (৫৬)। তিনি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ৭ নম্বর চিলারং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য। গত সোমবার দুপুরে ১ নম্বর ওয়ার্ডের চিলারং গ্রামে ভুক্তভোগীর নিজ বাড়িতে এ ঘটনাটি ঘটে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরীর দিনমজুর বাবা গত সোমবার সকালে অসুস্থ বড় মেয়েকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য দিনাজপুরে যান। একই দিন সকালে তাঁর স্ত্রী কাজের উদ্দেশ্যে বাইরে বের হলে কিশোরী একাই ঘরে অবস্থান করছিল। দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে ইউপি সদস্য আলাউদ্দীন ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে এনআইডি কার্ডের ফটোকপি চাওয়ার বাহানায় বাড়িতে আসেন। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগ নিয়ে তিনি ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালান। কিশোরী আত্মরক্ষার্থে খাটের নিচে লুকিয়ে পড়ে এবং সুযোগ বুঝে ঘর থেকে বের হয়ে ডাক-চিৎকার শুরু করলে ইউপি সদস্য পালিয়ে যান।
পরে বাবা বাড়ি ফিরে মেয়ের গলায় আঁচড়ের দাগসহ শারীরিক অসুস্থতা দেখে তাকে দ্রুত ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ঠাকুরগাঁওয়ে ভর্তি করান। ঘটনার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ইউপি সদস্য আলাউদ্দীনের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি উল্টো হুমকি-ধামকি দেন।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহান আলী জানিয়েছেন, এ ঘটনায় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আলাউদ্দীনকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
