মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে বাহরাইনের প্রধান তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ব্যাপকোতে হামলা চালিয়েছে ইরান। ফলে অনিবার্য কারণে দেশটির সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগারটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) এক বিশেষ প্রতিবেদনে সিএনএন এবং বাহরাইন নিউজ এজেন্সি জানায়, ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে ব্যাপকো এনার্জি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং তাদের রিফাইনারি কমপ্লেক্সে সাম্প্রতিক হামলার ফলে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানটি ‘অনিবার্য কারণ’ (Force Majeure) দেখিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ বন্ধের নোটিশ জারি করেছে। তবে বাহরাইনের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি সংকট এড়াতে সব ধরনের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, সোমবার সকালে বাহরাইনের রিফা এলাকার একটি শিল্পাঞ্চলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে আকাশ। এই এলাকায় ব্যাপেকোর বড় ধরনের স্থাপনা রয়েছে। যদিও অগ্নিকাণ্ডের কারণ বা হতাহত নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে এর আগে সিত্রা শহরে ইরানি ড্রোন হামলায় অন্তত ৩২ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, সিত্রা এবং পার্শ্ববর্তী শিল্পাঞ্চলগুলোতে ইরানের নিয়মিত আক্রমণ বাহরাইনের জ্বালানি খাতকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলেছে। গত সপ্তাহেও একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাপকো রিফাইনারির একটি ইউনিটে আঘাত হেনেছিল। বাহরাইন সরকার জানিয়েছে, আকাশপথের হামলা ঠেকাতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকলেও জনবসতি ও শিল্পাঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে।
উল্লেখ্য, ব্যাপকো বাহরাইনের মোট তেল উৎপাদনের প্রায় ৮৫ শতাংশ বিশ্ববাজারে সরবরাহ করে থাকে। এই শোধনাগারটি বন্ধ হওয়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ক্ষমতা গ্রহণের পর ইরানের সামরিক কৌশলে এমন আগ্রাসী পরিবর্তন মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি নিরাপত্তাকে বড় ধরনের হুমকির মুখে ফেলেছে।
