বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন ও ওয়ারেন্ট অফ প্রিসিডেন্স (রাষ্ট্রীয় মর্যাদাক্রম) অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর স্বামী বা স্ত্রীর কোনো সুনির্দিষ্ট সরকারি পদমর্যাদা নেই। আমেরিকার মতো বাংলাদেশে ‘অফিস অফ দ্য ফার্স্ট লেডি’র কোনো সাংবিধানিক বা আইনি অস্তিত্ব না থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় কোনো পদে না থেকেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদলের সাথে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশগ্রহণ এবং রাষ্ট্রীয় সফরে সফরসঙ্গী হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা হচ্ছে। সমালোচকদের মতে, রাষ্ট্রীয় নীতি অনুযায়ী পরিবারের সদস্যরা সরকারি খরচে সফরসঙ্গী হতে পারলেও নীতিনির্ধারণী বা কূটনৈতিক বৈঠকে তাঁদের অংশগ্রহণ প্রথাগত রীতির পরিপন্থী।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান সরকারি কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি না হয়েও রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৫০ শয্যার আইসিইউ ইউনিট, প্যাথলজি প্যাভিলিয়ন ও গ্যাস্ট্রো-লিভার সেন্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা উদ্বোধন করেছেন। ৫ মে ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত ওই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তাঁর নাম সম্বলিত উদ্বোধনী ফলকও উন্মোচন করা হয়, যা নিয়ে সুশীল সমাজ ও আইনজ্ঞদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
ওয়ারেন্ট অফ প্রিসিডেন্স অনুযায়ী মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ মর্যাদাবান ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও, প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তাঁদের ‘সম্মানিত অতিথি’ হিসেবে রাখার বিষয়টি প্রশাসনিক শিষ্টাচারের লঙ্ঘন বলে মনে করছেন অনেকে। অতীতেও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর স্বজনদের রাষ্ট্রীয় মঞ্চে আসন গ্রহণ নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে অস্বস্তি দেখা গিয়েছিল। বর্তমানে এই ধারা আরও বিস্তৃত হওয়াকে অনেকেই পরিবারতন্ত্রের প্রভাব হিসেবে দেখছেন।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সরকারি অর্থ ও ট্যাক্সের টাকায় নির্মিত স্থাপনা উদ্বোধনে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ কোনো জনপ্রতিনিধি বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের থাকাটাই আইনগতভাবে সংগত। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পদ ছাড়াই প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের এমন সক্রিয় ভূমিকা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা ও প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
