পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল ভয়াবহ সংঘাতের আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার আগেই ইরানের চলমান যুদ্ধ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। বুধবার তুরস্কের পার্লামেন্টে দেওয়া এক বক্তৃতায় তিনি সতর্ক করে বলেন, যে কোনো সংকটে যুদ্ধের পরিবর্তে কূটনীতিকে প্রাধান্য দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
গত সপ্তাহে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলের আকাশসীমায় ধেয়ে আসা ইরানের দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ওই এলাকায় ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্রের রাডার ঘাঁটি থাকায় বর্তমানে সেখানে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। এরদোয়ান বলেন, আরও ধ্বংসযজ্ঞ ছড়ানোর আগেই এই সংঘাত থামাতে হবে এবং কূটনীতিকে সুযোগ দিলে তা অর্জন করা সম্ভব।
আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে এরদোয়ান বলেন, তুরস্ক বর্তমানে একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। চারপাশের এই অস্থিরতা ও আগুনের আঁচ থেকে দেশকে রক্ষা করতে আঙ্কারা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রতিটি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে তুরস্ক সব পক্ষের সঙ্গেই নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে।
উল্লেখ্য, ১২ দিন আগে ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার আগেও তুরস্ক মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছিল। এরদোয়ান আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনের সমালোচনা করে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তবে তুরস্কের জাতীয় নিরাপত্তার ওপর কোনো হুমকি এলে তার কড়া জবাব দেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
এদিকে তুরস্কের প্রধান বিরোধী দল সিএইচপি-র চেয়ারম্যান ওজগুর ওজেল দাবি করেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক বজায় রাখতে এরদোয়ান সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সমালোচনা এড়িয়ে চলছেন। তার মতে, আঙ্কারার এই নীরবতা যুক্তরাষ্ট্রকে আরও আগ্রাসী হতে উৎসাহিত করছে এবং ওয়াশিংটন তুরস্কের সংবেদনশীলতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এরদোয়ান সরাসরি ট্রাম্পের নাম উল্লেখ না করলেও মার্কিন-ইসরায়েলি পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেছেন। গত এক বছরে ট্রাম্পের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক দুই দেশের উত্তেজনা প্রশমনে সাহায্য করলেও বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি সেই সম্পর্কে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।







