ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে ওয়াশিংটন যে পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল না, মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইটের বক্তব্যে তেমন ইঙ্গিতই পাওয়া গেছে। সিএনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাইট স্বীকার করেছেন যে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা (এসকর্ট) দেওয়ার সক্ষমতা মার্কিন নৌবাহিনীর এই মুহূর্তে নেই।
জ্বালানি সচিবের মতে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর বর্তমান মূল লক্ষ্য হলো ইরানের আক্রমণাত্মক সামরিক সক্ষমতা এবং অস্ত্র উৎপাদন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস করা। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দেওয়ার প্রক্রিয়াটি শুরু করতে আরও সময় লাগবে। আপাতত সমস্ত সামরিক শক্তি ইরানের হামলার সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতেই নিয়োজিত রয়েছে।
ক্রিস রাইট আরও উল্লেখ করেছেন যে, চলতি মাসের শেষ নাগাদ মার্কিন নৌবাহিনী হয়তো এই পাহারা বা এসকর্ট কার্যক্রম শুরু করতে সক্ষম হবে। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা চলছে। তার এই বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, ইরান নিয়ন্ত্রিত জলসীমায় তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন হামলার পর তেহরান পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নাটকীয়ভাবে বেড়ে যায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোকে বিশেষ সুরক্ষা দেওয়া হবে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনেরই একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এমন স্বীকারোক্তি প্রেসিডেন্টের পূর্ববর্তী দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালিতে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে না পারা এবং জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়া ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় কৌশলগত সীমাবদ্ধতা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
