ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হল সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল্লাহর গ্রামের বাড়িতে হামলার পর আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সাইফুল্লাহ নিজেই তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া থানায়।
ফেসবুক পোস্টে সাইফুল্লাহ লিখেছেন, ‘ইন্না-লিল্লাহ, সন্ত্রাসীরা আমার বাড়িতে হামলা ও আগুন দিয়েছে। আম্মা ফোন দিয়ে কান্নাকাটি করতেছে।’ জানা গেছে, গত রবিবার (৮ মার্চ) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এক কর্মীকে আটক করার ঘটনার পর থেকেই তিনি আলোচনায় ছিলেন।
সেই রাতে রাহিদ খান পাভেল নামে দর্শন বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে ‘ছাত্রলীগ’ করার অভিযোগে আটক করে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করেছিলেন সাইফুল্লাহ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা। তখন সাইফুল্লাহ ফেসবুকে লিখেছিলেন, ‘ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ধরেছি। শাহবাগ থানায় নিয়ে যাচ্ছি। লীগ প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
আক্রান্ত শিক্ষার্থী রাহিদ খান পাভেলের অভিযোগ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হাসিব আল ইসলাম, মো. সাইফুল্লাহসহ কয়েকজন তাকে ইট, বেল্ট ও মোটরসাইকেলের লক দিয়ে নির্মমভাবে মারধর করেছেন। পাভেলের দাবি, তিনি মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী এবং তাকে হলের সামনে ও শাহবাগ থানার ভেতর মারধর করা হয়েছে।
অন্যদিকে সাইফুল্লাহর দাবি, রাহিদ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় হামলাকারী ছিল এবং তাকে হল ও বিভাগ থেকে বয়কট করা হয়েছিল। সম্প্রতি সে আবারও ক্যাম্পাসে এসে সাবেক ছাত্রলীগারদের নিয়ে ইফতার মাহফিল ও পোস্টারিং করছিল। তাকে আটকের পর তল্লাশি করতে গেলে সে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখায়, যার ফলে তাকে আটক করে থানায় দেওয়া হয়।
সাইফুল্লাহর বাড়িতে আগুনের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও তার গ্রামের বাড়িতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে। সাইফুল্লাহর সমর্থকরা একে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ হিসেবে দেখছেন।
