জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডের দায়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অভিশংসন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে জুলাই ঐক্য। একই সঙ্গে গণহত্যার সহযোগী হিসেবে তাকে বিচারের আওতায় আনার দাবিও জানানো হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এসব দাবি তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে জুলাই ঐক্যের সংগঠক ফাহিম ফারুকী বলেন, দীর্ঘদিন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের পর ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। ওই গণঅভ্যুত্থানে সরকারের গুলিতে ১,৪০০-এর বেশি ছাত্র-জনতা নিহত হন এবং হাজার হাজার মানুষ গুরুতর আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করেন। তার অভিযোগ, সেই সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দিয়ে ‘জনতার সংসদকে অপবিত্র’ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতি একাধিকবার শপথ ভঙ্গ করেছেন এবং বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে অসত্য তথ্য দিয়েছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের অক্টোবরে জুলাই ঐক্য বঙ্গভবন ঘেরাও করতে যায়। অথচ সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ ঘটে ২০২৫ সালের মে মাসে। এমন বক্তব্যের মাধ্যমে দেশে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জুলাই ঐক্যের নেতারা বলেন, শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে গঠিত বর্তমান সংসদে ‘গণহত্যাকারী সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির’ ভাষণ দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের অভিযোগ, রাষ্ট্রপতিকে সংসদে ভাষণ দেওয়ার সুযোগ করে দিয়ে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি জুলাইয়ের চেতনা ও শহীদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।
তারা আরও বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দুটি শপথ গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হলেও বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে উল্টো রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে ভাষণ করিয়েছে। এর মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে সংগঠনটির নেতারা বলেন, ছাত্র-জনতার ত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে আজকের সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জুলাইয়ের আন্দোলন না হলে বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনেকেই দেশে ফিরতে পারতেন না বা সক্রিয় রাজনীতিতে থাকতে পারতেন না। সেই আন্দোলনের চেতনা অস্বীকার করা হলে তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সংবিধানের ৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গুরুতর অসদাচরণ ও সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে সংসদের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অভিশংসন করে পদ থেকে অপসারণ করতে হবে। পাশাপাশি গণহত্যার সহযোগী হিসেবে তাকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
এ ছাড়া যারা এখনো সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেননি, তাদের দ্রুত চলতি অধিবেশনে শপথ নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী কাঠামোর অবসান ঘটানোর আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দেয় জুলাই ঐক্য।
সংবাদ সম্মেলনে জুলাই ঐক্যের সংগঠক কবি মুন্সি বুরহান মাহমুদ, আসমাউল হুমসান, আব্দুল কাশেম অর্পিতা, মুসা, সাবিতসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
