ইরাকের বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ইরানের তৈরি একঝাঁক ‘ক্যামিকাজি’ বা আত্মঘাতী ড্রোন দিয়ে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে চালানো এই হামলায় দূতাবাসের অভ্যন্তরে থাকা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) এবং হেলিকপ্টার ল্যান্ডিং প্যাড মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলায় নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদী ইরানি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। ইরাকি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, একটি আত্মঘাতী ড্রোন সরাসরি দূতাবাসের ভেতর অবস্থিত হেলিকপ্টার ল্যান্ডিং প্যাডে আঘাত হানে। হামলার পরপরই দূতাবাসের বিশাল কম্পাউন্ড থেকে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উঠতে দেখা যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল দূতাবাসের নিরাপত্তা নিশ্চিতকারী অত্যাধুনিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমগুলোকে অকেজো করে দেওয়া। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ড্রোনের তীব্র গর্জন এবং এরপর শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দে পুরো গ্রিন জোন এলাকা কেঁপে ওঠে। হামলার সময় দূতাবাসের কর্মীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য জরুরি সাইরেন বাজানো হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরাকে থাকা মার্কিন স্থাপনাগুলো নিয়মিত ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। এর আগে গত মঙ্গলবারও বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে একটি মার্কিন কূটনৈতিক কেন্দ্রে ড্রোন হামলা হয়েছিল। তবে এবার সরাসরি মার্কিন দূতাবাসের মতো সর্বোচ্চ সুরক্ষিত স্থানে ইরানি ড্রোনের আঘাত হানার বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও নিরাপত্তা উদ্বেগজনক বলে মনে করা হচ্ছে।
মার্কিন দূতাবাস কর্তৃপক্ষ এই হামলার ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য না করলেও, বাগদাদের গ্রিন জোন এবং এর আশপাশের এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে।







