প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঈদ উপহার হিসেবে কাপড় বরাদ্দের ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীদলীয় সংসদ-সদস্যরা। অভিযোগ উঠেছে, এই বরাদ্দ শুধুমাত্র সরকারি দলের সংসদ-সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় দেওয়া হয়েছে, যেখানে বিরোধীদলীয় এমপিদের এলাকাগুলো সম্পূর্ণ বঞ্চিত রয়েছে।
সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর দাবি, প্রধানমন্ত্রী কোনো নির্দিষ্ট দলের নন, তিনি পুরো বাংলাদেশের অভিভাবক। ত্রাণ তহবিলটিও কোনো দলীয় ফান্ড নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের সম্পদ। অথচ ঈদ উপহারের মতো একটি মানবিক বিষয়েও রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ ও বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, সরকারি দলের বাইরে কি সাধারণ মানুষ নেই? নির্বাচনী এলাকাভিত্তিক এই বিভাজন দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য হুমকিস্বরূপ। নাগরিকরা মনে করছেন, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া সুযোগ-সুবিধা সমভাবে বণ্টন না হওয়া গভীর প্রশাসনিক বৈষম্যের বহিঃপ্রকাশ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর ফান্ড থেকে সাহায্য পাওয়ার অধিকার দেশের প্রতিটি দুস্থ নাগরিকের রয়েছে, তারা যে এলাকার বা যে দলের সমর্থকই হোক না কেন। সরকারি ও বিরোধীদলের নির্বাচনী এলাকায় এই দ্বৈতনীতি সামাজিক অস্থিরতা এবং জনমনে অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে তুলছে।
দেশের সচেতন সমাজ অবিলম্বে এই বৈষম্য দূর করার দাবি জানিয়েছে। তারা মনে করেন, ঈদ আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক ভেদাভেদ থাকা উচিত নয়। উন্নয়নের পাশাপাশি মানবিকতার ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রকে নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করতে হবে, যাতে কোনো নাগরিক নিজেকে অবহেলিত মনে না করেন।
