ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের ১৬তম দিনে সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) ইরান থেকে ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনার পর পুরো ইসরায়েল জুড়ে উচ্চ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে এবং নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে জানা গেছে, রোববার রাত থেকে অন্তত সাতটি বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। আকাশপথে আসা এই বিশাল হুমকি মোকাবিলায় ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকলেও রাজধানী তেল আবিবসহ মধ্য ইসরায়েলের বেশ কিছু স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্লাস্টার বোমার আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে।
সিএনএন ও টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় তেল আবিব ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় বেশ কিছু ভবন ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসরায়েলি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের স্প্লিন্টার ও কাঁচের আঘাতে অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৮০ বছর বয়সী দুই বৃদ্ধও রয়েছেন। বর্তমানে উদ্ধারকারী দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কাজ করছে।
এদিকে বাহরাইনেও বড় ধরনের হামলার খবর পাওয়া গেছে। বাহরাইন কর্তৃপক্ষের দাবি, ইরান যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে এ পর্যন্ত তারা ১২৫টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২১১টি ড্রোন প্রতিহত করেছে। তবে ইন্টারসেপ্ট করা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে রাজধানী মানামায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে সিফ ডিস্ট্রিক্ট এবং সালমান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আগুনের ঘটনা ঘটেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বাহরাইনে এই সংঘাতের রেশ ধরে এখন পর্যন্ত অন্তত ২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী উপসাগরীয় দেশগুলোতে (সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত) আরও অন্তত ২৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ইরান সম্প্রতি হুমকি দিয়েছে যে, তারা এই যুদ্ধের পরিধি আরও বাড়াবে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা ব্যবহারে চরম সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর মতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন এবং খামেনি প্রশাসন তার পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে এই বিশাল আক্রমণ চালিয়েছে। পরিস্থিতি এখন যে পর্যায়ে রয়েছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে শান্তি ফেরার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
