আজ পবিত্র লাইলাতুল কদর বা শবে কদর। পবিত্র রমজান মাসের মহিমান্বিত এই রাতটি আজ সন্ধ্যা থেকে সারা দেশে ধর্মীয় মর্যাদা ও গভীর ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হবে। পবিত্র কোরআনের ঘোষণা অনুযায়ী, এই রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। সূর্যাস্তের পর থেকে আগামীকাল ফজরের আগ পর্যন্ত এই রাতের তাৎপর্য বহাল থাকবে।
এ উপলক্ষে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ দেশের অধিকাংশ মসজিদে আলোচনা সভা, মিলাদ, নফল ইবাদত, দোয়া ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জানান, যথাযথ মর্যাদা ও ধর্মীয় পরিবেশে আজ রাতে সারা দেশে পবিত্র লাইলাতুল কদর পালিত হবে। এ উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আজ বাদ মাগরিব বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে আলোচনা সভা ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে লাইলাতুল কদরের ফজিলত, গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরবেন বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতি মুহাম্মদ মিজানুর রহমান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) আ. ছালাম খান। সভাপতিত্ব করবেন দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ।
এছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, ইসলামিক মিশন কেন্দ্র এবং ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমিগুলোতেও আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, অন্য সময়ে এক হাজার মাস ইবাদত করলে যে সওয়াব পাওয়া যায়, শবে কদরের রাতে ইবাদত করলে তার চেয়েও বেশি সওয়াব লাভ করা যায়।
হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, রমজানের শেষ দশকের যেকোনো বিজোড় রাত লাইলাতুল কদর হতে পারে। তবে অধিকাংশ আলেমের মতে ২৬ রমজানের রাতেই লাইলাতুল কদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মুসলমানদের মতো বাংলাদেশের মুসলমানরাও নিজেদের গুনাহ মাফ এবং অধিক সওয়াব অর্জনের আশায় নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আসকার ও দোয়ার মাধ্যমে রাতটি অতিবাহিত করবেন।
পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক বাণীতে দেশবাসীসহ বিশ্বের মুসলমানদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন।
বাণীতে তিনি বলেন, লাইলাতুল কদর এক মহিমান্বিত ও বরকতময় রাত। পবিত্র কোরআনুল করিম রমজানের এই রাতেই নাজিল হয়েছে। মহান আল্লাহ তায়ালা এই রাতকে হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ বলে ঘোষণা করেছেন। এই রাত মানবজাতির জন্য কল্যাণ, ক্ষমা ও রহমতের বার্তা নিয়ে আসে।
তিনি আরও বলেন, এই রাতে ইবাদত-বন্দেগি, তওবা ও দোয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক বিশেষ সুযোগ সৃষ্টি হয়। রমজান সংযম, আত্মশুদ্ধি ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার মাস। লাইলাতুল কদরের শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে শান্তি, ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় অনুপ্রেরণা জোগায়।
