ইসলামে বৈষম্য, অন্যায় ও জুলুমের কোনো স্থান নেই। পৃথিবীতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ইসলামের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা সুস্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যেন মানুষ আমানতদারিতা বজায় রাখে এবং কারো বিচার করার সময় অবশ্যই ন্যায়পরায়ণতার নীতি অনুসরণ করে। আল্লাহ সবকিছু শোনেন এবং দেখেন, তাই প্রতিটি কর্মের জন্য তাঁর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
জুলুমের শাস্তি যেমন ভয়াবহ, তেমনি এটি দুনিয়া ও আখেরাত উভয় স্থানেই কার্যকর হয়। আল্লাহ জালিমদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে উদাসীন নন। তিনি জালিমদের সেই কঠিন দিন পর্যন্ত অবকাশ দেন, যেদিন ভয়ে মানুষের চোখ পলকহীন হয়ে থাকবে। জালিমরা সেদিন আল্লাহর সামনে মাথা নত করে দৌড়াতে থাকবে এবং তাদের অন্তর হবে দিশেহারা ও শূন্য।
জুলুম করা যেমন অপরাধ, জালিমকে সমর্থন করা বা জুলুমে সাহায্য করাও সমান অপরাধ। কেউ নিজে সরাসরি জুলুম না করেও যদি জালিমের পক্ষে কথা বলে, লেখে কিংবা তার কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে, তবে সেও আল্লাহর দরবারে জালিম হিসেবেই বিবেচিত হবে। পবিত্র কোরআনে জালিমদের প্রতি সামান্যতম ঝুঁকেও না পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অন্যথায় জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি অসত্যের মাধ্যমে সত্যকে চাপা দিতে কোনো জালিমকে সাহায্য করে, তার ওপর থেকে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সব দায়িত্ব উঠে যায়। এমনকি কোনো মুমিন ব্যক্তিকে হত্যার জন্য সামান্যতম সাহায্যকারীকেও আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কোনোভাবেই জুলুমের সহযোগী হওয়া কিংবা জালিমকে সমর্থন দেওয়া একজন প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না।
সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে ক্ষমতা থাকলে জুলুম থামিয়ে দেওয়া বা প্রতিহত করা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য। সরাসরি বাধা দেওয়ার সামর্থ্য না থাকলে মুখে প্রতিবাদ করতে হবে এবং তাও সম্ভব না হলে অন্তত অন্তরে সেই জুলুমকে ঘৃণা করতে হবে। কোনো পরিস্থিতিতেই অন্যায় ও জুলুমের সাথে আপস করা যাবে না।
