ক্ষমতায় বসার এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই আরেকটি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি সরকার। আজ সোমবার দিনাজপুরে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়ায় ১২ কিলোমিটার খালের পুনঃখনন কাজের মাধ্যমে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন তিনি। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় মৃতপ্রায় ও ভরাট হয়ে যাওয়া খালগুলো পুনরায় খনন করা হবে। এর ফলে সেচব্যবস্থা উন্নত হবে এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমবে।
এছাড়া মাছ চাষ, হাঁস পালনসহ খালনির্ভর অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, খাল পুনরুদ্ধার হলে কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে, উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং বন্যা ও জলাবদ্ধতা কমে আসবে। একই সঙ্গে স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল সোয়া ১০টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। সেখান থেকে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরে যাবেন। সেখানে বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে ‘সাহাপাড়া খাল’ পুনঃখননের মাধ্যমে ‘খাল খনন কর্মসূচি ২০২৬’-এর উদ্বোধন করবেন। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টায় একটি জনসভায় বক্তব্য দেবেন।
বেলা সাড়ে তিনটায় দিনাজপুর পৌরসভার উপশহরে শেখ ফরিদ মডেল কবরস্থানে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার নানা-নানি ও খালার কবর জিয়ারত করবেন। বিকাল পাঁচটায় দিনাজপুর সার্কিট হাউস চত্বরে সুধী সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলে অংশ নেবেন তিনি।
বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুকনো মৌসুমে কৃষিজমিতে সেচের জন্য পানির সংকট নিরসনে খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। স্বাধীনতার পর তিনি প্রথম এ উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ১৯৭৭ সালে গ্রামীণ অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত এবং কৃষি উৎপাদন বাড়াতে প্রায় ৩ হাজার ৬৩৬ মাইল খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়, যা ‘সবুজ বিপ্লব’-এর অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
তবে জিয়াউর রহমানের সময় খনন করা অনেক খাল বর্তমানে ভরাট হয়ে গেছে, ফলে বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এসব সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যেই নতুন করে খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার।
এর আগে গত শুক্রবার সাহাপাড়া-বলরামপুর খাল পরিদর্শন করেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি জানান, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং বিএডিসির সমন্বয়ে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। শুধু খননই নয়, খালের পাড় সংরক্ষণ, বাঁধ নির্মাণ এবং বৃক্ষরোপণের উদ্যোগও নেওয়া হবে। খালের পানি বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যবহারের ব্যবস্থাও করা হবে, যাতে কৃষি উৎপাদন বাড়ে এবং স্থানীয় মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হয়।
প্রধানমন্ত্রীর দিনাজপুর সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।
