লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর মদাতী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লবকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তবে এই গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে পুলিশের ভূমিকা এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের চালের ভাগ চাওয়া নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
চেয়ারম্যানকে আটকের পরপরই একটি অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়, যেখানে স্থানীয় সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলের পক্ষ থেকে ভিজিএফ চালের ৩০ শতাংশ ভাগ দাবি করতে শোনা যায়। কল রেকর্ডে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সবুজ ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক বিধান চন্দ্র রায় চেয়ারম্যানকে সরাসরি এমপির ‘থার্টি পার্সেন্ট’ বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
ফাঁস হওয়া কথোপকথনে বিএনপি নেতা সবুজকে বলতে শোনা যায়, “এমপি সাহেবের থার্টি পার্সেন্ট আপনি বুঝিয়ে দিয়েছেন? আমরা কিন্তু বিনা ভোটে এমপি হইনি। আমাদের বরাদ্দ নিয়ে আপনি কীভাবে মিটিং করেন?” জবাবে চেয়ারম্যান বিপ্লব জানান যে, নিয়ম অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিনিধির উপস্থিতিতে মিটিং করা হয়েছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সবুজ দ্রুত ১০০০৩টি টোকেন বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
কালীগঞ্জ থানার ওসি আবু সিদ্দিক জানিয়েছেন, চালের ভাগাভাগি বা কল রেকর্ডের সঙ্গে এই গ্রেপ্তারের কোনো সম্পর্ক নেই। তাঁর দাবি, বিপ্লব সরকার পলাতক ছিলেন এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনার অভিযোগে তাঁকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে। তবে ওসির এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মিনহাজ আলী। তিনি জানান, চেয়ারম্যান নিয়মিত অফিস করতেন এবং ৫ আগস্টের পর অল্প কয়েকদিন ছাড়া তিনি কখনোই পলাতক ছিলেন না।
জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক রাজিব আহসানও চেয়ারম্যান পলাতক থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি। অন্যদিকে, বিএনপি নেতা বিধান চন্দ্র রায় এই কথোপকথনকে ‘সম্পর্কের খাতিরে সাধারণ আলাপ’ বলে উড়িয়ে দিলেও স্থানীয়দের ধারণা, চালের ভাগ দিতে রাজি না হওয়ার কারণেই চেয়ারম্যানকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
