সাম্প্রতিক ইরানি হামলার পর ইসরায়েলের সুউচ্চ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন করে বড় ধরনের দুর্বলতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। কৌশলগত হামলার মাধ্যমে ইরান ইসরায়েলের প্রাথমিক সতর্কবার্তা ব্যবস্থা এবং প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ককে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সমীকরণে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, ইরান সম্প্রতি কাতারে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন রাডার সিস্টেমে হামলা চালিয়েছে। এই রাডারটি ইসরায়েলের দিকে ধেয়ে আসা যেকোনো ক্ষেপণাস্ত্র অনেক আগে শনাক্ত করতে মূল ভূমিকা পালন করত। এই রাডার ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইসরায়েলি নাগরিকদের কাছে আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছানোর সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, যা প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।
একই সময়ে আরব আমিরাতে মোতায়েন করা মার্কিন ‘থাড’ (THAAD) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও হামলার শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে। এই শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি মূলত উচ্চ-উচ্চতার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এর ওপর হামলা হওয়ায় পুরো অঞ্চলে মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ প্রতিরক্ষা বলয়টি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে।
এই ঘটনাগুলো ইসরায়েলের সুপরিচিত আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের সীমাবদ্ধতাগুলোকে স্পষ্ট করে তুলেছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষার প্রধান স্তম্ভগুলো হলো:
-
আয়রন ডোম (Iron Dome): স্বল্প পাল্লার রকেট প্রতিহতের জন্য এটি কার্যকর।
-
প্যাট্রিয়ট (Patriot): বিমান এবং ব্যালেস্টিক মিসাইল ধ্বংস করতে ব্যবহৃত হয়।
-
অ্যারো (Arrow): বায়ুমণ্ডলের বাইরের হুমকি মোকাবেলায় এটি সক্ষম।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো নির্দিষ্ট ধরনের হুমকি মোকাবেলার জন্য তৈরি করা হলেও বর্তমান যুদ্ধের নতুন ধরন—যেমন ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন হামলা বা সরাসরি রাডার ও লঞ্চারকে লক্ষ্য করে নিখুঁত আঘাত—এর বিরুদ্ধে নিজেদের পুরোপুরি রক্ষা করতে পারছে না। বিশেষ করে সরাসরি রাডার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই অস্ত্রগুলো লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
সব মিলিয়ে বর্তমানে প্রতিরক্ষার দিক থেকে বেশ বিপজ্জনক ও নাজুক অবস্থায় রয়েছে ইসরায়েল। ইরানের এই নতুন রণকৌশল প্রমাণ করছে যে, শুধু শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকলেই আধুনিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধের যুগে নিরাপদ থাকা সম্ভব নয়। আঞ্চলিক এই উত্তেজনার ফলে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
