জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) লোকপ্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শারমীন জাহান (খাদিজা)-এর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর স্বামী ফাহিম আল হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে পুলিশ তাঁকে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠিয়েছে।
নিহত শারমীন চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার শাহজাহান মোল্লার মেয়ে। অন্যদিকে, গ্রেপ্তারকৃত ফাহিম আল হাসান ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাসিন্দা। গত বছরের জুন মাসে প্রেমের সম্পর্কের জেরে বিয়ের পর তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেছিলেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বিয়ের পর থেকেই তাঁদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। ১৫ মার্চ বিকেলে ফাহিম নিজেই শারমীনের পরিবারকে ফোন করে তাঁর অসুস্থতার কথা জানান। শারমীনের চাচা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে খাটের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। সুরতহালে শারমীনের মাথায় ও কপালে গভীর কাটা জখম পাওয়া গেছে।
আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আজগর হোসেন জানান, ঘটনার পরপরই ফাহিমকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে গত রোববার দিবাগত রাতে শারমীনের চাচার করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে।
এদিকে, মেধাবী এই শিক্ষার্থীর নৃশংস মৃত্যুতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান এক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে ‘নৃশংস হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) এবং ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন এই ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছে। ছাত্রনেতারা জানান, বাসা থেকে ল্যাপটপ ও ফোন নিখোঁজ হওয়া এবং শারমীনের শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকায় এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে। তাঁরা অবিলম্বে এই ঘটনার পেছনের সত্য উন্মোচনের দাবি তুলেছেন।
